| বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো: জনগণের জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-07-2025 ইং
  • 4694582 বার পঠিত
সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো: জনগণের জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব
ছবির ক্যাপশন: সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর প্রভাব: সাধারণ মানুষের উপর অস্থিরতার শঙ্কা

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আইএমএফের নির্দেশনা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে আনার ফলে সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে, বিশেষত নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, পেনশনার এবং বয়স্ক নাগরিকদের কাছে।

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর কারণ

আইএমএফের শর্ত অনুসারে, সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষত যাদের জীবনযাত্রার খরচ সঞ্চয়পত্রের সুদ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল, তারা বিপর্যস্ত হচ্ছেন।

এছাড়া, সরকার ব্যয়ের আকার বাড়াতে না চাইলে বাজেটকে সংকোচনমূলক করা হয়েছে, যা সাধারণ জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। একইভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মুদ্রানীতি সংকোচন করছে, যা সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দেওয়ার কারণে জনগণ ব্যাংকে টাকা রাখার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে, ফলে সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ কমছে।

দুর্বল আর্থিক অবস্থার মুখে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো

বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর ফলে বিশেষত মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, "মধ্যবিত্তরা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন। সুদহার কমানো তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা তৈরি করবে।"

অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী জানান, "আইএমএফ-এর শর্ত পূরণের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হলেও বয়স্ক এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"

পৃথক আর্থিক অবস্থা: সুদের হার এবং বন্ড মার্কেট

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে কিছু আর্থিক খাতের উন্নয়ন সমস্যা তৈরি করছে। সঞ্চয়পত্রের বেশি সুদ দেওয়ার ফলে বন্ড মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলো বন্ড বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল না।

এজন্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের কাছে এই সমস্যা সমাধানের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে সরকার স্বীকার করেছে যে, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী দায় তৈরি করেছে, এবং আইএমএফ বলছে যে এই ব্যয়ের ভার সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

আইএমএফ শর্ত অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের সুদহার পরিবর্তন

আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সুদহার এখন বাজারভিত্তিক হয়ে যাবে, এবং এটি ট্রেজারি বিলের সুদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যেমন, ট্রেজারি বিলের সুদ বাড়লে সঞ্চয়পত্রের সুদও বাড়বে, আর ট্রেজারি বিলের সুদ কমলে সঞ্চয়পত্রের সুদও কমবে।

এমপিও কমানোর ও এর প্রভাব

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশে আনা হয়েছে, এবং এর পরিবর্তে সুদের হার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ৬ শতাংশের নিচে নামানো হয়েছে।

এদিকে, আইএমএফ-এর ঋণ দেওয়ার আগে এবং পরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার কারণে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের বিপরীতে রাষ্ট্রীয় রাজস্বে অবমূল্যায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ জনগণের কাছে সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ আরও কমে যাবে।

সম্ভাব্য প্রভাব এবং সমাধান

সরকারের সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর পদক্ষেপের ফলে যে সমস্ত নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং বয়স্ক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের জন্য বিকল্প সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া যেতে পারে।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency