নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫ — বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “অন্যায়কারীর সঙ্গে দলীয় সম্পর্ক থাকলেও তার বিচার হতে হবে আইনের দৃষ্টিতে। সরকার চুপ কেন, এটা এখন জাতির প্রশ্ন।”
শনিবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক স্মরণসভায় তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। 'জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি' উপলক্ষে 'গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের অমর শহীদদের স্মরণে' এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “যারা অন্যায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দলে থেকেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বসে আছে কেন? তাদের তো বিএনপি চালায় না। চালায় সরকার। তাহলে সরকার নিজ দলের কিংবা অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?”
বক্তব্যে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীর পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে।
“ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্ট দেখা গেলেও আজ পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। কেন হয়নি? এটাও কি সরকারের নীরব সমর্থন, নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্রয়?”
তারেক রহমান আরও বলেন, “একটা ছেলেকে মেরে ফেলা হলো। তার সঙ্গে যুবদলের হয়তো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু যে খুন করেছে, সে তো অন্য জায়গা থেকে আনা লোক। তাকে ধরা হচ্ছে না, অন্যদের ধরা হচ্ছে! কেন?”
তারেক রহমান বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলেছি—যে অন্যায় করবে, সে দলেরই হোক বা অন্য কেউ, আইনের দৃষ্টিতে বিচার হবেই। আমরা কাউকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। আমাদের তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থাও নিয়েছি।”
তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “চোখ-কান খোলা রাখুন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা ও গণপিটুনি কি সরকারের নীরব প্রশ্রয়ে হচ্ছে? প্রশাসনের কোনো অংশ কি এসব অপকর্মে মৌন সমর্থন দিচ্ছে? দেশের মানুষ জানতে চায়—কেন প্রকৃত অপরাধীদের ধরছে না সরকার? কেন বিচার হচ্ছে না?”
আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের বিচারসহ প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “যে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ঘটছে, সেগুলোর প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচার করতে হবে। অন্যথায় জাতি ক্ষমা করবে না।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। আর গণতন্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাচন। আজ দেশে নির্বাচন নেই বলেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, সহিংসতা ও চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়ছে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার ‘আইনের শাসন’ ও ‘দলীয় প্রশ্রয়হীনতার’ কথা বলার মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, চলমান গণ-আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে—এই বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আপনার মতামত জানান:
আপনার কী মনে হয়—সরকার প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে? নাকি রাজনৈতিক চাপেই চলছে নীরবতা?
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |