| বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল, ডিম-আদার আগুনে জ্বলছে বাজার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-08-2025 ইং
  • 4546990 বার পঠিত
পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল, ডিম-আদার আগুনে জ্বলছে বাজার
ছবির ক্যাপশন: পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল

পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল, ডিম-আদায়ও আগুন—তবু তদারকির ঘাটতি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ৬ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক

সরবরাহে ঘাটতি নেই, তবু বাড়ছে দাম—বিপাকে ভোক্তা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে পেঁয়াজ, ডিম ও আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অথচ বাজারে সরবরাহ বা পরিবহন ঘাটতির তেমন কোনো প্রমাণ নেই। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, প্রতি সপ্তাহেই পকেটে আগুন লাগছে, অথচ সরকারিভাবে কার্যকর নজরদারি নেই বললেই চলে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)–র তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে—

  • পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০–২০ টাকা

  • আদা বেড়েছে কেজিতে ৬০–৮০ টাকা

  • ডিমের ডজন বেড়েছে ২০–২৫ টাকা

বাজারে গিয়ে যা দেখা গেল

রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা যায়:

  • দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০–৮৫ টাকা কেজিতে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬০–৬৫ টাকা

  • মানভেদে আদার দাম ২০০–২৮০ টাকা কেজি, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ১৩০–১৮০ টাকা

  • ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৪০–১৪৫ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০–১২৫ টাকা

ব্যতিক্রম শুধু রসুন:

দেশি রসুন ১২০–১৪০ টাকায়, আমদানি করা রসুন ১৬০–১৮০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

বিক্রেতা কী বলছেন?

জোয়ারসাহারা বাজারের বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম বলেন—

“পেঁয়াজ পাইকারিতেই কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। ডিমের ডজন ২০ টাকা বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। আমরা তো নিজেদের খুশিতে বাড়াচ্ছি না, বাড়তি দামে কিনে এনে কম দামে তো বিক্রি করতে পারি না।”

ভোক্তার কষ্টের গল্প: "ধার করেও বাজার করতে হয়"

রামপুরা বাজারের ভোক্তা সুরুজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

“১০ দিন আগেও দুই কেজি পেঁয়াজ ১২০ টাকায় নিয়েছিলাম, এখন ১৬০ চাচ্ছে। এভাবে চললে সংসার চালানো অসম্ভব। আয় বাড়ে না, কিন্তু খরচ মাসে মাসে লাফিয়ে বাড়ে।”

তিনি জানান, চাল, ডাল, তেলসহ সবকিছুর দাম আগেই বেড়েছিল। এখন প্রতিটি সপ্তাহেই নতুন করে বাড়ছে কোনো না কোনো নিত্যপণ্যের দাম।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন ভলান্টারি কনজিউমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটি (ভোক্তা)–এর নির্বাহী সদস্য মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন—

“পেঁয়াজ বা ডিমের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাস্তব কোনো কারণ নেই। এটি মনিটরিংয়ের অভাবদৃঢ় বাজার নিয়ন্ত্রণহীনতার ফল।”

তিনি আরও বলেন—

“সরকার সংস্কারের কথা বললেও বাজারে সংস্কারের প্রতিফলন আমরা দেখি না। নিয়মিত বাজার তদারকিই একমাত্র সমাধান।”

ব্যবস্থা কোথায়? সরকারি নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

নিত্যপণ্যের বাজারে সরকার নানা সময় অপারেশন ‘সারপ্রাইজ’ চালু করলেও তা টেকসই হয় না। মধ্যস্বত্বভোগী, মজুদদার ও পাইকারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই। ফলে সপ্তাহ ঘুরতেই দাম আবার বেড়ে যায়।

টিসিবি মাঝে মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করলেও, তা সীমিত সংখ্যক নাগরিকের উপকারে আসে।

উপসংহার: পেঁয়াজের ঝাঁজ, ডিমের আগুন—ভোক্তার রক্ষা কোথায়?

পেঁয়াজ, আদা ও ডিম—তিনটি অতি প্রয়োজনীয় পণ্য। এদের দামে এমন অস্বাভাবিক উত্থান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। আরেকবার মনে করিয়ে দেয়—বাজার শুধু দামে নয়, নীতিতে নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন।

সরকার যদি এখনই নিয়মিত নজরদারি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সামনে ঈদ বা পূজার সময় আরও বড় মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ অপেক্ষা করছে।

সূত্র:

  1. ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), বাজার বিশ্লেষণ – ৫ আগস্ট ২০২৫

  2. বাজার জরিপ – বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিবেদক, রামপুরা ও বাড্ডা

  3. ভোক্তা সংগঠন 'ভোক্তা' – বিবৃতি, আগস্ট ২০২৫

  4. কালের কণ্ঠ, বাজার পরিস্থিতি প্রতিবেদন – ৪ আগস্ট ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency