ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৫ – ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের এক বছর পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই তরঙ্গেই ফেব্রুয়ারিতে নাহিদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের সংগঠকরা মিলে গঠন করেন এনসিপি।
কিন্তু এক বছর পার হতে না হতেই দলটির ইমেজে ভাটা পড়েছে। নানা বিতর্ক, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিতর্কিত বক্তব্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তরুণদের প্রত্যাশার দলটি।
গাজী সালাউদ্দিন তানভীর: যুগ্ম সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক নিয়োগে হস্তক্ষেপ ও এনসিটিবির কাগজে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে দল তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে।
সরোয়ার তুষার: কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। শোকজের পর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হলেও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।
আব্দুল হান্নান মাসউদ: তিন ছাত্রনেতাকে থানায় দেনদরবার করে ছাড়িয়ে আনার পর সমালোচনায় পড়েন। পরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সারজিস আলম: শতাধিক গাড়ির শোডাউন দিয়ে আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেন। ব্যাখ্যা দিলেও তরুণদের আস্থা কমে যায়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ: সেনাবাহিনীর নাম জড়িয়ে বক্তব্য ও সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্যের জন্য বারবার সমালোচিত। কক্সবাজারে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে পথসভায় হামলা পর্যন্ত হয়। সম্প্রতি তিনি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না বলায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।
৫ আগস্ট, অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজারে পাঁচ শীর্ষ নেতা অবকাশ যাপন করেন। এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ বাড়ে। তাদের শোকজ করা হয়।
এদিকে, পদত্যাগও বাড়ছে। গত দুই মাসে প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মী দল ছাড়ার খবর পাওয়া গেছে। একাধিক কমিটি স্থগিত হয়েছে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আগামী নির্বাচনে মাত্র ২.৮% ভোটার এনসিপিকে সমর্থন করতে চায়। বিএনপিকে সমর্থন করছেন ১২%, জামায়াতকে ১০.৪% এবং আওয়ামী লীগকে ৭.৩% ভোটার। সর্বাধিক ৪৮.৫% উত্তরদাতা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
সাইফুল আলম (ঢাবি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা): “সাড়ে ৯ মাসে ৮০–৯০% তরুণ হতাশ। এনসিপির জনপ্রিয়তা ভেঙে পড়েছে।”
মাহবুবুর রহমান (ঢাবি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান): “এখনো এনসিপিকে মূল্যায়নের সময় হয়নি। নির্বাচনের মধ্যেই বোঝা যাবে তাদের অবস্থান।”
তাসনিম খলিল (এডিটর ইন চিফ, নেত্র নিউজ): “নাহিদ ইসলামের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল। দলে এমন প্রভাবশালী নেতা আছেন, যারা এনসিপির জন্য কাজই করছেন না।”
এক দফা দাবির আন্দোলন থেকে অভ্যুত্থান, তারপর এনসিপি—এ যাত্রা শুরু হয়েছিল বিশাল জনসমর্থন নিয়ে। কিন্তু বছরের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, বিভাজন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিই দলে ভর করেছে। তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এখন সব প্রশ্ন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে—নির্বাচনে এনসিপি কতটা টিকে থাকবে?
এনসিপি অভ্যুত্থান প্রেক্ষাপট, ৩–৫ আগস্ট ২০২৪
এনসিপি গঠনের ঘোষণা, ফেব্রুয়ারি ২০২৫
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) জরিপ, জুলাই ২০২৫
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও গণমাধ্যম রিপোর্ট
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |