| বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রায় পুনর্বিবেচনা শুনানি ২১ অক্টোবর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-08-2025 ইং
  • 4406229 বার পঠিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রায় পুনর্বিবেচনা শুনানি ২১ অক্টোবর
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রায় পুনর্বিবেচনা নিয়ে আপিল শুনানি ২১ অক্টোবর

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আপিল বিভাগের মন্তব্য

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ। আগামী ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ বলেন,
“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না আপিল বিভাগ। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কার্যকর সমাধান চাই, যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।”

শুনানিতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

শুনানির প্রেক্ষাপট

  • মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) একই বেঞ্চ রিভিউ শুনানি একদিন মুলতবি করেছিল।

  • শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির মন্তব্য করেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে যেসব বিচারপতি রায় দিয়েছেন, তাঁদের অনেকে পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।”

  • এদিন প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরানো হয়, তবে সেটি কবে থেকে কার্যকর হবে?”

আবেদনকারীরা কারা?

রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন একাধিক রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

  • বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (অক্টোবর ২০২৩)।

  • সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং আরও চারজন — তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

  • জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার (২৩ অক্টোবর ২০২৩)।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতা

  • ১৯৯৬: সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তর্ভুক্ত হয়।

  • ১৯৯৮: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম. সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

  • ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট: হাইকোর্ট রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে।

  • ২০০৮ সালের নির্বাচন: শেষবারের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ তখন দুই-তৃতীয়াংশ আসন পায়।

  • ২০১১ সালের ১০ মে: আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেয়।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবসময় উত্তপ্ত ইস্যু।

  • বিরোধী দলগুলো মনে করে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

  • আওয়ামী লীগ বরাবরই বলছে, এ ব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক এবং অস্থায়ী সমাধান।

  • বর্তমান আপিল বিভাগের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—কেবল অতীত পুনরাবৃত্তি নয়, বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সমাধান খুঁজে বের করাই আদালতের লক্ষ্য।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের গণতন্ত্র বারবার রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে নির্বাচনের সময়কার নিরপেক্ষতা নিয়ে।
১৯৯১–২০০৮ সাল পর্যন্ত যে ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখেছে, সেটি আবার আলোচনায় এসেছে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করেছে, তারা “ফেরানো” নয়, বরং নতুন সমাধান দিতে চায়।
অতএব ২১ অক্টোবরের শুনানি শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।


সূত্র

  1. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যবিবরণী (২০১১, ২০২৩–২৫)

  2. সংসদীয় কার্যক্রম ও সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নথি (১৯৯৬, ২০০৪)

  3. জাতীয় সংবাদমাধ্যম: যুগান্তর, প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা (সংকলিত তথ্য)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency