| বঙ্গাব্দ

অস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহী ছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিব ও ডিবির হারুন: ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-09-2025 ইং
  • 4357320 বার পঠিত
অস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহী ছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিব ও ডিবির হারুন: ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপি
ছবির ক্যাপশন: ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপি

ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপির জবানবন্দি: অস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহী ছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিব ও ডিবির হারুন

প্রতিবেদক

বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহী ছিলেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তিনি সাক্ষ্য দেন। মামুন তখন জুলাই আন্দোলনের সময়ে পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৮ নির্বাচনের আগের ঘটনা

তার জবানবন্দিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী শেখ হাসিনাকে ৫০ শতাংশ ব্যালট বাক্সে আগে থেকেই ভোট ভরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া ও ব্লক রেইডের মতো সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক।

গোপন বন্দিশালা ও নির্দেশনার উৎস

মামুন জানান, র‍্যাব-১ এ টিএফআই নামে একটি গোপন বন্দিশালা ছিল। একই ধরনের বন্দিশালা অন্যান্য র‍্যাব ইউনিটেও পরিচালিত হতো। সরকারবিরোধী মতাদর্শী ও ভিন্নমতাবলম্বী মানুষদের এখানে আটক করে রাখা হতো।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশনা আসত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। কখনো সরাসরি নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা, কখনো তার উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী। আয়নাঘরে আটক কিংবা ক্রসফায়ারে হত্যার মতো অভিযানের দায়িত্ব পালন করত র‍্যাবের অপারেশন ও গোয়েন্দা শাখা।

রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি

এ বছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন, যেন সত্য উন্মোচিত হয়।

মামলার অগ্রগতি

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং চিকিৎসকসহ এখন পর্যন্ত ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, চলতি মাসেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে।


সূত্র

  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১, সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)

  2. সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (২৪ মার্চ ২০২৫)

  3. জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত সাক্ষ্য ও প্রসিকিউশন রিপোর্ট (২০২৪–২০২৫)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency