জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার-র সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-র আমীর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী-র সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া বিনিময়
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে, রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেফাজতের আমীর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও দোয়া বিনিময়ের একটি মুহূর্ত ভাগাভাগি করেন।
আয়োজক হিসেবে ছিল স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা-উপায়ে “শাপলা চত্বরের নিহত শহীদদের পরিবার সদস্যদের জন্য চেক বিতরণ” অনুষ্ঠানে সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
জামায়াতের সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক) পোস্ট অনুযায়ী:
“সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশ ও ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ পরিবারের নিকট চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের পর জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেফাজতের আমীর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দোয়া-বিনিময় করেন।”
অনুষ্ঠানে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আন্দোলনে আসা সবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি রয়েছে। তিনি আরও বলেন,
“আওয়ামী লীগ আমলের অন্যতম ফেসাকার হয়েছিল শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড। আর চব্বিশের জুলাই ও আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান ছিল সব হত্যাযজ্ঞের বহিঃপ্রকাশ।”
এই সাক্ষাৎ ও দোয়া আদান-প্রদানকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংহতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হতে পারে, কারণ গত এক-দুই বছরে জামায়াত-হেফাজতের সম্বন্ধ ও দ্বিমুখী আলোচনায় নিয়মানুগতার আলোচনা উঠে এসেছে।
৫ মে ২০১৩ শাপলা চত্বর প্রতিবাদ–এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল হেফাজতের বিশাল সমাবেশ, যেখানে তারা ১৩ দফা দাবিতে ডাকা আন্দোলন করেছিল।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড়ো পরিসরে অভিযানে নামে। মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
হেফাজতের দাবি অনুযায়ী ৫ মে-এর ওই সমাবেশের পর নিহত কর্মীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা ৯৩ জনেরও বেশি হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও হেফাজতের আমীরের এই সাক্ষাৎ একটি ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে ধর্মীয়-রাজনৈতিক দুই সংগঠন সম্মিলিতভাবে গত ঘটনা-হতাহতদের প্রতি দৃষ্টিপাত করছে।
একই-সঙ্গে, জামায়াতের মন্তব্য “শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি” রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহিংসতা ও গণআন্দোলনের ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করার সংকেত দিচ্ছে।
এই ধরনের সাক্ষাৎ ও দোয়া বিনিময় রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে ধর্মীয় সংহতির মঞ্চে একটি স্থানান্তর নির্দেশ করতে পারে—যেখানে রাজনৈতিক সংগঠনরা ধর্মীয় ও মানবিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ও মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ধর্মীয়-রাজনৈতিক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেও বোঝা যেতে পারে—যেখানে পুরনো সংঘর্ষ ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সহমর্মিতা, স্মরণ ও পুনরুদ্ধার-এর দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে আগামী সময়ে রাজনৈতিক সংগঠন ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যকার সম্পর্ক-রূপান্তর, সম্মিলিত কর্মসূচি ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর জন্য একটি নতুন আপেক্ষিকতা তৈরি হতে পারে।
The Business Standard, “Hefazat publishes list of 93 reportedly killed at Shapla Chattar on 5 May 2013”.
The Daily Star, “‘One or two advisers conspiring to bring a party to power’: Golam Porwar”.
Wikipedia / 2013 Shapla Square protests (overview).
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |