বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেছেন, দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রলম্বিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নির্ধারিত নির্বাচন আয়োজন করাই গণতন্ত্রের যাত্রা পুনরায় শুরু করার একমাত্র পথ। মঙ্গলবার টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে “বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” জেলা শাখার অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আযম খান বলেন, “সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই হবে একটি স্বাধীন জাতীয় সংসদ ও একটি গণতান্ত্রিক সরকার; কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি চক্র বারবার সক্রিয় হয়েছে। গত ১৪ মাসে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, অনেক ষড়যন্ত্র আমরা পার করে এসেছি। তারপরও তারা বারবার নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটা দিন যদি নির্বাচন পেছায়, একটা দিন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা যেন কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতা না করি। এখন কিছু রাজনৈতিক দল একদিকে প্রার্থীদের মাঠে নামিয়েছে, ভোট চাইছে, আবার অন্যদিকে রাস্তায় আন্দোলন করছে। এই দ্বিচারিতা গণতন্ত্রের সহায়ক নয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা যদি আন্দোলনের নামে নির্বাচন ব্যাহত করেন, এর দায় আপনাদেরই নিতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ, ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা।”
তিনি সবাইকে আহ্বান জানান: “আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। নির্বাচনে জনগণ যাকে পছন্দ করবে, যাকে ভালোবাসবে, তাকেই ভোট দেবে। এই নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম মমতাজুল করিম (প্রধান বক্তা), প্রেস ক্লাব সভাপতি জাফর আহমেদ (উদ্বোধক) এবং জেলা বিএনপি–সহ অন্যান্য সহযোগী দল ও সংগঠন-নেতা।
আহমেদ আযম খান: “নির্বাচনের আগে দেশে দলে-উপদেষ্টা-প্রশাসন-রদবদল না হলে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না।” — Tangail, 26 April 2025।
তিনি March 12 2025-এ চট্টগ্রামে বলেছিলেন: “নির্বাচন পেছানো হবে, তাহলে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তাঁর বেলা July 4 2025-এ আরও স্পষ্ট হয়- “হাইব্রিড রাজনীতি” বিএনপিতে জায়গা পাবে না, সবাই নির্বাচনে অংশ নেবে।
বিশ্লেষণ দিতে গেলে:
আহমেদ আযম খান এই মুহূর্তে নির্বাচন-প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির একটি উদ্বেগমুক্ত নয় এমন রূপ তুলে ধরছেন—বলেন, শুধু নির্বাচন নয়, নির্বাচন আয়োজনের পদ্ধতি, সময়সূচি, প্রশাসনের মনোবল ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ সবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি নিদান দিচ্ছেন যে, রাজনৈতিক দল এবং আন্দোলনভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংঘর্ষ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে: মাঠে নির্বাচন-প্রার্থী নামিয়ে ভোট দাবি করা, অন্যদিকে রাস্তায় আন্দোলন করা—এই দ্বিচারিতা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিএনপি নিজেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি প্রিমিয়াম পার্টি হিসেবে জায়গা দিতে চাইছে, যেখানে নির্বাচন দ্রুত ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
তাঁর ‘দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করা বিষয়টি রাজনৈতিক মডেলে একটি আন্তর্জাতিক বা বহু-আকর্ষিত চক্রের ধারণাকে সামনে এনে দিচ্ছে যা নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করছে—এটি রাজনৈতিক পরিবেশে উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
নির্বাচন-প্রস্তুতির সময়সূচিতে যদি রাজনৈতিক দল-সরকার মিথস্ক্রিয়া দ্রুত না হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও আস্থার হ্রাস হতে পারে।
আহমেদ আযম খান–র কথায় যে রণকৌশল উঠে এসেছে—“প্রার্থীর মাঠে নামার সময় আন্দোলন না করতে হবে”–সে নির্দেশিকা দলীয় কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
নির্বাচনের আগে কোনো দফায় দফায় দখল-/রদবদল-সহ প্রশাসন-পরিবর্তনের দাবি উঠছে; এ-সব যদি বাস্তবায়িত হয়, নির্বাচনের পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরবর্তী সময়ে যদি নির্বাচন পেছিয়ে যায় বা অংশগ্রহণ কম হয়, তাহলে এই বক্তব্যগুলো বিপরীতে প্রমাণিত হলে বিএনপির দৃষ্টিতে আহমেদ আযম খান-র কথাগুলো রাজনৈতিক ‘বিচার-মূলক’ রূপ নিতে পারে।
আহমেদ আযম খান–র দেওয়া বক্তব্য একদৃষ্টে নির্বাচনের প্রাসঙ্গিক সময়সূচি ও স্বচ্ছতা-বিষয়ক দাবি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়া বা গ্রহণ করার বিষয় নয়—it’s about সময়সূচি, অবাধ-নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ, প্রশাসন-নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা। বর্তমান সময়ে এই ধরণের দাবি উঠে আসা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
“Ahmed Azam Khan: Those trying to delay national election will betray August 5 uprising” – Dhaka Tribune, 26 April 2025.
“Attempts to delay election to be harmful for democracy, economy : Azam Khan” – BSS, 12 March 2025.
“No Place for Hybrids in BNP; All Must Join Elections” — Voice7 News, 04 July 2025.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |