প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নাগরিকদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত ছিল যে, জমির দলিলে একবার ভুল হয়ে গেলে তা আর সংশোধন করা যায় না। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বিশেষ করে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, চৌহদ্দি অথবা নামের বানানে কোনো ভুল ধরা পড়লে, সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তা সংশোধন করা সম্ভব। ক্ষেত্রবিশেষে, দেওয়ানি আদালতের রায়ই সংশোধিত দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির দলিলে ভুল সংশোধনের পদ্ধতি এবং সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত আছে, যা সাধারণ মানুষকে জেনে রাখা জরুরি।
দলিল রেজিস্ট্রির পর যদি তাতে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, চৌহদ্দি বা নামের বানানে বড় ধরনের কোনো ভুল ধরা পড়ে, যা দলিলের মূল কাঠামোকে প্রভাবিত করে, সেক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।
সময়সীমা: ভুল ধরা পড়ার পর ৩ (তিন) বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করতে হবে।
তামাদি: ৩ বছর পার হয়ে গেলে এই ধরনের মামলা তামাদির (সময়সীমার) কারণে বারিত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আর সরাসরি সংশোধন মামলা করা যায় না, তবে ঘোষণামূলক মামলা করা যেতে পারে।
সংশোধনের পদ্ধতি: এক্ষেত্রে আদালতের দেওয়া মামলার রায়ই সংশোধিত দলিল হিসেবে গণ্য হয়। রায়ের একটি সার্টিফাইড কপি আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। সাব-রেজিস্ট্রার তখন ওই রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট ভলিউম সংশোধন করে নেবেন।
নতুন দলিল তৈরির প্রয়োজন নেই: এই প্রক্রিয়ায় আর নতুন করে কোনো দলিল করার প্রয়োজন নেই। (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ৩১ ধারা)।
দলিল রেজিস্ট্রির পর যদি তাতে দাগ, খতিয়ান বা নামের বানানে ছোট-খাটো কোনো ভুল ধরা পড়ে এবং যে ভুল সংশোধন করলে দলিলের মূল কাঠামো বা মালিকানা স্বত্বে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না, সেক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
আবেদন: এই ধরনের ছোট ভুল সংশোধনের জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করা যাবে।
ক্ষমতা: সাব-রেজিস্ট্রার তার এখতিয়ারভুক্ত এই ধরনের ছোট-খাটো ভুল সংশোধন করতে পারেন।
জমির দলিলে ভুল এড়াতে দলিল প্রস্তুতের সময় ক্রেতাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। জমির দলিলে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ক্রেতার নিচের বিষয়গুলোতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন:
| বিষয় | করণীয় |
| দলিল লেখক নির্বাচন | দক্ষ ও অভিজ্ঞ তালিকাভুক্ত দলিল লেখক নির্বাচন করুন। দলিল লেখকের নাম, স্বাক্ষর এবং লাইসেন্স যাচাই করুন। |
| বিক্রেতার যোগ্যতা | দলিল সম্পাদনকারী (বিক্রেতা) আইনের দৃষ্টিতে সাবালক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী কিনা, তা যাচাই করে নিতে হবে। |
| পুরাতন দলিল/স্বত্বের ভিত্তি | জমির বিক্রেতার মালিকানার ভিত্তি (পূর্বের দলিল নম্বর, তারিখ, পর্চা/খতিয়ান) সঠিক কিনা, তা নিশ্চিত করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি হলে মূল মালিকের সঙ্গে বিক্রেতার সম্পর্ক সঠিকভাবে যাচাই করে নিতে হবে। |
| তফশিল ও চৌহদ্দি | জমির তফশিল (জেলার নাম, উপজেলা, মৌজা, দাগ নং, খতিয়ান নম্বর, জমির শ্রেণি) যেন নির্ভুলভাবে লিখানো হয়, তা নিশ্চিত করুন। জমি ক্রয়ের আগে তহসিল অফিস হতে সঠিক দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর জেনে নিন। |
| চৌহদ্দি | উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম পাশের জমির বর্ণনাসহ মালিকের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কিনা, তা মিলিয়ে নিন। |
| দাগ নম্বর লিখন | কোন অবস্থাতেই কয়েকটি দাগের জমি একত্রে যোগ করে একর/শতাংশ লেখা উচিত হবে না। প্রতিটি দাগে মোট জমির পরিমাণ কত এবং বর্তমান দলিলে উক্ত দাগের মধ্য হতে কত একর/শতাংশ জমি দেওয়া হচ্ছে, তা প্রতি ক্ষেত্রে পৃথকভাবে লিখে নিতে হবে। |
| কাটাকাটি ও স্বাক্ষর | দলিলে যতদূর সম্ভব কাটাকাটি, ঘষামাঝা, অস্পষ্টতা এড়িয়ে চলুন। যদি ভুল হয়, তবে উক্ত লাইন ও শব্দের ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে কৈফিয়ত লিখে দলিল লেখককে তার নীচে স্বাক্ষর করতে হবে। |
| স্বাক্ষর | বিক্রেতা দলিলে (প্রথম পৃষ্ঠার ওপরের ডান পাশে ও শেষ পৃষ্ঠার নীচে) নিজ নাম স্বাক্ষর করেছেন কিনা, তা দেখুন। কমপক্ষে ২ জন সাক্ষীর এবং একজন সনাক্তকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে। |
দলিল লেখার সময় দলিল প্রুফ বা একাধিকজনকে দিয়ে প্রুফ রিডিং করালে বড় ধরনের ভুলত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩১ ধারা।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নির্দেশিকা।
জ্যেষ্ঠ দেওয়ানি আইনজীবীদের আইনি মতামত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |