প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ (স্বতন্ত্র) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা 'জুলাই আন্দোলনের' কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এবার এ প্রসঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্ট দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।
ড. মির্জা গালিব তাঁর ফেসবুক পোস্টে শরিফ ওসমান হাদিকে 'জুলাই আন্দোলনের অন্যতম হিরো' হিসেবে গণ্য করে তাঁর মনোবল ও আদর্শিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন:
"ওসমান হাদি জুলাইয়ের আইকনিক ফিগার, আমাদের সময়ের নায়ক।"
তিনি এই কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন। ড. গালিব দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, এমন হামলা করে বিপ্লবকে থামানো যাবে না:
"হাদিদের কোনো ভয় থাকে না, কোনো মৃত্যু থাকে না। যারা কাপুরুষের মতো গুলি করে বিপ্লবকে শেষ করতে চায়; তারা জেনে রাখো, আমাদের বিপ্লব চলবেই। হাসবুনাল্লাহ।"
তাঁর এই বার্তাটি স্পষ্ট করে দিল যে, গুলি ও সহিংসতা দিয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ('জুলাই বিপ্লব') মাধ্যমে তৈরি হওয়া পরিবর্তনকামী রাজনৈতিক ধারাকে দমন করা অসম্ভব।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারাত্মক আহত হন শরিফ ওসমান হাদি।
প্রাথমিক চিকিৎসা: গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং জীবন বাঁচাতে তাঁকে সিপিআর দিতে হয়েছিল।
আঘাতের ধরন: ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ পূর্বে জানিয়েছিলেন, হাদির মাথার ভেতরে গুলি থাকার পাশাপাশি কানের আশেপাশেও গুলির আঘাত রয়েছে।
স্থানান্তর: পরিবারের সিদ্ধান্তে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আইসিইউ সংবলিত বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. মির্জা গালিবের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের এই প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ।
বিপ্লবের ধারাবাহিকতা: তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত 'বিপ্লব' শব্দটি ১৯৫০-এর দশকে ভাষার জন্য আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬০-এর স্বাধিকার আন্দোলন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ('জুলাই বিপ্লব') পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করে।
নেতৃত্বের সংকট: ওসমান হাদির মতো 'জুলাই আন্দোলনের' নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিত্বের ওপর হামলা এটা প্রমাণ করে যে, ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি ২০২৫ সালেও বিদ্যমান।
নিন্দা ও উদ্বেগ: এই হামলার পর পরই বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস হাদির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান খোঁজ নিয়েছেন। এছাড়াও ড. মিজানুর রহমান আজহারী মতো জনপ্রিয় বক্তারা 'জুলাই সৈনিকদের নিরাপত্তা' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব প্রতিক্রিয়া দেশে-বিদেশে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, "হাদির জন্য কাঁদছে পুরো বাংলাদেশ"।
ড. মির্জা গালিবের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদের বক্তব্য।
জুলাই বিপ্লব এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |