রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান ও গণঅধিকার পরিষদের নতুন হাল: ২০২৫-এর নির্বাচনে বড় মেরুকরণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে নির্বাচনের ডামাডোল যত বাড়ছে, দলবদল আর নতুন সমীকরণের চিত্র ততই স্পষ্ট হচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাসান আল মামুনের দায়িত্ব গ্রহণ ২০২৫ সালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে রাশেদ খানের লড়াইয়ের ঘোষণা নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে গণঅধিকার পরিষদের সর্বোচ্চ ফোরামের এক জরুরি অনলাইন সভায় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। হাসান আল মামুন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ও আহ্বায়ক ছিলেন। দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ নিশ্চিত করেছেন যে, সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালেই ব্যক্তিগত কারণ ও নির্বাচনী কৌশলের কথা উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাশেদ খান। দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপি তাকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই দলবদল ও জোটবদ্ধ হওয়ার সংস্কৃতি ১৯৫০-এর দশক থেকেই বিদ্যমান। ১৯৫০ সালে যখন এই ভূখণ্ডে গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই শুরু হয়, তখন থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মেরুকরণ দেখা গিয়েছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যেমন ছোট বড় দলগুলো এক হয়ে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে লড়েছিল, ২০২৫ সালেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার শরিক দলগুলোর মাঝে আসন সমঝোতার একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে যেমন আদর্শিক লড়াই ও নির্বাচনী কৌশলের জন্য দলবদল হয়েছিল, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৫-এর নির্বাচনেও তার প্রতিফলন ঘটছে। রাশেদ খানের গণঅধিকার পরিষদ ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান মূলত তরুণ প্রজন্মের রাজনীতির সাথে মূলধারার রাজনীতির এক মেলবন্ধন তৈরির চেষ্টা। ১৯৫০-এর সেই অধিকার আদায়ের চেতনা আজ ২০২৫-এ এসে নতুন এক নির্বাচনী রূপ পরিগ্রহ করেছে।
এদিকে ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন শিষ্টাচারের পরিবেশ তৈরি করেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি সরাসরি হাসপাতালে মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। শনিবার তাকে নিয়ে কটূক্তিকারী শহিদুল ইসলামের মুক্তি চেয়ে তারেক রহমান ও বিএনপির দেওয়া বিবৃতি প্রমাণ করে যে, ১৯৫০-এর সেই কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ও সহনশীল সমাজ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তব রূপ পাচ্ছে।
দেশের ভেতরে যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনও বেশ উত্তপ্ত। মালয়েশিয়ায় এ বছর ১১ হাজার বাংলাদেশি আটক হওয়া প্রবাসীদের জন্য বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মিয়ানমারে জান্তার অধীনে এক বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের আট বিভাগীয় অবরোধ কর্মসূচি ও দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ—সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের এই শেষ দিনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
১৯৫০-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫-এর বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে ঘিরেই হয়েছে। হাসান আল মামুনের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের নতুন যাত্রা এবং রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে যে মেরুকরণ শুরু হলো, তা আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন নজর পুরো জাতির।
তথ্যসূত্র: ১. গণঅধিকার পরিষদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও আবু হানিফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বিএনপির মিডিয়া সেল ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ সম্মেলন। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও গুগল এনালাইসিস আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |