প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ২০২৫ সালের এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংসদীয় গণতন্ত্রের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জাতি। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট আয়োজনে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকেই এদেশের মানুষের মধ্যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা দানা বেঁধেছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তরুণেরা ছিল পরিবর্তনের কারিগর। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়ে এদেশের মানুষ একটি ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের’ জন্য লড়াই করেছে।
বিগত ১৫ বছরের নির্বাচনী ব্যবস্থায় যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, ২০২৫ সালের এই নির্বাচন তা কাটিয়ে ওঠার এক মহা-পরীক্ষা। ১৯৫০-এর দশকে যে চেতনার যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’ তা বাস্তবায়ন করতে চায়। ড. ইউনূসের এই ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ থাকার ঘোষণা মূলত ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত চলা কয়েক প্রজন্মের লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত সফল পরিণতির ইঙ্গিত।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন এবং তার সাথে একই দিনে অনুষ্ঠেয় ‘জুলাই সনদ’ ভিত্তিক গণভোট সফল করতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফল করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচনের আগে শান্তি বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
বৈঠকে বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত নতুন শ্রম আইনের সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসন প্রধান উপদেষ্টার গত ১৭ মাসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মার্কিন সরকারের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত শ্রম সংস্কারকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। তিনি মনে করেন, এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশে আরও বেশি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে সহায়ক হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য ড. ইউনূস ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসন গত এক বছর দায়িত্ব পালন শেষে এই বিদায়ী সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাঁর মেয়াদের সমাপ্তি টানলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৫০-এর যুক্তফ্রন্ট কিংবা ৭০-এর নির্বাচনের পর এবারের ২০২৬-এর নির্বাচনটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর। দীর্ঘ সময় পর প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং ‘না’ ভোটের পুনাপ্রবর্তন ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদল নয়, বরং একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ১. রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে প্রকাশিত প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর নোট (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রিপোর্ট। ৩. ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও নির্বাচনী ধারা: ১৯৫০-২০২৫’ (ঐতিহাসিক দলিল)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |