| বঙ্গাব্দ

আগামী নির্বাচন নিয়ে সংশয় নেই, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 2596861 বার পঠিত
আগামী নির্বাচন নিয়ে সংশয় নেই, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
ছবির ক্যাপশন: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

আগামী নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো সংশয় নেই: সাভারে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সাভার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনে কোনো সংশয় নেই। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাভারের রেডিও কলোনি মাঠে ‘ভোটের রিকশা’ প্রচারণা ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ডাক ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই, নির্বাচন হবেই। জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং স্বৈরাচার যাতে আর কোনোদিন ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে। এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের রায়।" অনুষ্ঠানে তিনি প্রচারণার কাজে অংশ নেওয়া রিকশাচালকদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকে গণতন্ত্র ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ তাদের আত্মপরিচয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে এনেছিল। ১৯৮০-র দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৯১-এর অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়।

তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের (জানুয়ারি) নির্বাচনগুলো মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল জুড়েই চলেছে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের আজকের এই প্রচারণা মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মো. ইয়াসীন, যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ এবং বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এএসএম জাহীদ প্রমুখ।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এবার নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, এই গণভোটের মাধ্যমেই সংবিধানের আমূল পরিবর্তন ও 'জুলাই সনদ' কার্যকর করার গণরায় নেওয়া হবে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এই সরাসরি প্রচারণা প্রমাণ করে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না এবং নির্ধারিত সময়েই (১২ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবিচল রয়েছে।


সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), তথ্য মন্ত্রণালয় আর্কাইভ এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর সাভার প্রতিনিধি প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency