| বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের শেষ নির্বাচনের ঘোষণা: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভোট চাইলেন বিএনপি মহাসচিব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-01-2026 ইং
  • 2506849 বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের শেষ নির্বাচনের ঘোষণা: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভোট চাইলেন বিএনপি মহাসচিব
ছবির ক্যাপশন: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের শেষ নির্বাচনের ঘোষণা

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন ভাষণ: ‘মুক্তিযুদ্ধই আমাদের অস্তিত্ব, এটিই আমার শেষ লড়াই’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঠাকুরগাঁও: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি জীবনের শেষ সময়ে এসেছি। এটিই আমার শেষ নির্বাচন। আমি আপনাদের কাছে সুযোগ চাই, আমরা মানুষের শিরার ভেতর মিশে থেকে কাজ করতে চাই।"

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অস্তিত্বের লড়াই

বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপি মহাসচিব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা ১৯৭১ সালকে সব সময় মাথা উঁচু করে রাখতে চাই, কারণ ওই লড়াইয়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিহিত। পাকিস্তান আমাদের ওপর অত্যাচার করত বলেই আমরা আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম।"

তিনি আরও যোগ করেন, যারা সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছিল, তারা আজ আবার ভোট চাইছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা দেশ ও স্বাধীনতাকেই বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে দেশের ভার তুলে দিয়ে কি আমরা দেশের সর্বনাশ করব?

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলটি ছিল সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।

  • ১৯৪৭-১৯৭১: দেশভাগের পর ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের আত্মত্যাগ ছিল অতুলনীয়। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বারবার ফুটে উঠেছে।

  • ২০২৪-২০২৫: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ২০২৫ সাল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারকাল, যা বাংলাদেশকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে নিয়ে যায়।

  • ২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে যে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসন তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর নৌকা বিহীন এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে ভোট দিতে যাচ্ছে জনগণ।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অধিকারের বার্তা

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আশ্বস্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, "হিন্দু ভাইয়েরা আপনারা ভয় পাবেন না। আপনারা সংখ্যালঘু নন। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলে গেছেন—এই দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই; আমরা সবাই বাংলাদেশি। সবার অধিকার সমান। তাই বুক ফুলিয়ে দাঁড়ান, বিএনপি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।"

শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া সমালোচনা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আগে লড়াই হতো নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে। এখন সেই নৌকা নেই। নৌকার যিনি কাণ্ডারি ছিলেন, তিনি আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছেন। তিনি এখন দিল্লিতে বসে আছেন। তিনি দেশে থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকত।"

গণসংযোগ ও কর্মীদের উচ্ছ্বাস

গণসংযোগকালে বিডি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। মির্জা ফখরুলের আবেগপূর্ণ বক্তব্য শুনে অনেক নেতাকর্মীকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশে ধানের শীষের জয়জয়কার হবে এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত বিজয় অর্জিত হবে।


সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সংবাদদাতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency