প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস যেমন ত্যাগ ও লড়াইয়ের, তেমনি তা বার বার বাঁক পরিবর্তনের সাক্ষী। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব এবং ২০২৬ সালের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ—প্রতিটি পর্যায়েই নেতৃত্বের ধরন ও জনগণের প্রত্যাশা বদলেছে। একদিকে যখন সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে 'মিডিয়া ট্রায়াল' ও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি চলছে, অন্যদিকে তখন প্রান্তিক জনপদের ভাগ্য পরিবর্তনের ইশতেহার নিয়ে হাজির হচ্ছে নতুন প্রজন্মের নেতারা।
বাংলার রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এরপর ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৬ সালের ৬-দফা দাবির পথ ধরে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের পর ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সামরিক ও স্বৈরশাসনের এক দীর্ঘ অধ্যায় পার করে বাংলাদেশ। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু হলেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত বারবার হোঁচট খেয়েছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এই আন্দোলনের হাত ধরেই দেশের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বর্তমানে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগের পর ২ মাস সরকারি বাসায় থাকার আইনি সুযোগ থাকলেও তিনি মাত্র ২০ দিনের মাথায় বাসা ছেড়েছেন। অথচ কতিপয় গণমাধ্যম একে 'মিডিয়া ট্রায়াল' হিসেবে উপস্থাপন করছে।
বর্তমানে এনসিপির (ন্যাশনাল সিভিক পার্টি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ বলেন, "রাজনৈতিক আর্গুমেন্টের পাল্টা আর্গুমেন্ট না দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটা হীনম্মন্যতার পরিচয়।" তার এই ক্ষোভ প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ দেশের রাজনীতিতে কাদা ছোঁড়াছুড়ির সংস্কৃতি ২০২৬ সালেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
একদিকে যখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্যক্তিগত বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে পটুয়াখালী-০৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোঃ নুরুল হক নুর একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন জনপদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ভিপি তার নির্বাচনী এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের এক বিস্তৃত ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
নুর তার ইশতেহারে স্পষ্ট করেছেন যে, স্কুলজীবন থেকেই তিনি অবহেলিত দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের হাহাকার দেখে বড় হয়েছেন। তার ইশতেহারের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
যোগাযোগ ও সুরক্ষা: নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সড়ক ও নৌপথে ফেরি সার্ভিসসহ আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও ডিজিটাল ল্যাবসহ আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উদ্যোগে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসার জন্য দুটি হাসপাতাল নির্মাণ।
আইনশৃঙ্খলা সংস্কার: গলাচিপা ও দশমিনায় বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সালিশ-বাণিজ্য বন্ধ করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।
ধর্মীয় সম্প্রীতি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং 'বুক ফুলিয়ে' চলার পরিবেশ তৈরি করা।
অর্থনৈতিক বিপ্লব: কৃষিভিত্তিক হিমাগার স্থাপন, ইকো ট্যুরিজম জোন এবং বেকারত্ব দূর করতে আইসিটি পার্ক ও ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।
নুরুল হক নুরের ভাষ্য, "টাকার অভাবে যেন এই জনপদের কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, এটাই আমার স্বপ্ন।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ১৯৫২ কিংবা ১৯৭১—প্রতিটি আন্দোলনই ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের। ২০২৬ সালে এসে দেশের মানুষ এখন আর বিভেদ ও আক্রমণের রাজনীতি চায় না। আসিফ মাহমুদের মতো নেতারা যখন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দাবি তুলছেন, আর নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতারা যখন কৃষি ও কর্মসংস্থানের ইশতেহার দিচ্ছেন, তখন বোঝা যায় বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ব্যক্তিপূজা থেকে বেরিয়ে নীতি ও আদর্শের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, মোঃ নুরুল হক নুরের নির্বাচনী ইশতেহার (ফেসবুক পোস্ট), জাতীয় আর্কাইভ, যুগান্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন নিজস্ব অনুসন্ধান বিভাগ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—জনগণ সবসময় পরিবর্তনের পক্ষে। সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে বিতর্ক বা তরুণ প্রার্থীদের উন্নয়নমুখী ইশতেহার—সবই একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মিডিয়া ট্রায়ালের ঊর্ধ্বে উঠে যদি নুরের ঘোষিত ইশতেহারের মতো গণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবেই ২০২৪-এর বিপ্লবের সার্থকতা আসবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |