বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরীক্ষা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইলে এটিই তার প্রথম রাজনৈতিক সফর, যা পুরো জেলায় এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) এই ভূখণ্ডের মানুষ বারবার শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—সবই ছিল বঞ্চনা থেকে মুক্তির লড়াই। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, "৫ই আগস্টের পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চলবে না; এই পরিবর্তন হতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের দিন হিসেবে। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনার দিন।"
গত দেড় দশকের শাসনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, "আমরা দেখেছি বড় বড় মেগা প্রজেক্টের আড়ালে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ গুম, খুন এবং গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামীর বাংলাদেশ চলবে জনগণের ইচ্ছায়, কারণ জনগণই দেশের মালিক। ৫ই আগস্টের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটারদের ১২ তারিখে কেন্দ্রে যাওয়ার এবং ফলাফল না আসা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি ও মধুপুরের আনারসকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন:
কৃষকদের জন্য: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং সহজ শর্তে সার-বীজ সরবরাহ।
নারীদের জন্য: সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রবর্তন।
কর্মসংস্থান: বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে স্থানীয় শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মহলের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের Indo-Pacific Strategy (IPS) এবং চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। বিএনপি তার '৩১ দফা' সংস্কার প্রস্তাবনার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আশ্বাস দিয়েছে। জনসভায় উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং এটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা।
জনসভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত থেকে স্থানীয় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-২ আসনের আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৮ আসনের আহমেদ আযম খান, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আটটি আসনের প্রার্থীরা। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে টাঙ্গাইল বাইপাস এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তারেক রহমানের টাঙ্গাইল সফর ২০২৬-এর নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। ৫ই আগস্টের বিপ্লবকে একটি অর্থবহ গণতন্ত্রে রূপান্তর করতে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই এখন চূড়ান্ত লক্ষ্য। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, তেমনি আগামীর মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশও বিশ্বদরবারে নতুন পরিচয় পাবে—এমনই প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রথম আলো (৩১ জানুয়ারি ২০২৬), বিএনপি মিডিয়া সেল, রয়টার্স এবং স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |