প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৌশলগত ঐক্য এবং নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের ওপর ডিজিটাল আক্রমণের ঘটনা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের দাপুটে সংগঠক ও এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই ভয়াবহ সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক সাক্ষাৎকারে ডা. মিতু বলেন, “জামায়াতকে সাপোর্ট দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষের নোংরামি আর সাইবার বুলিং ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ও চরিত্রহননমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এই আক্রমণের মাত্রা আগের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি।”
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ে ১৯০০ সালের পর থেকে নারীদের অংশগ্রহণ বরাবরই সাহসী ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে ছাত্রীদের মিছিল থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ত্যাগ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ডা. মিতুর মতো তরুণ চিকিৎসকদের ভূমিকা ছিল অনন্য। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বারবার প্রমাণ হয়েছে যে, নারীরা যখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তখনই একটি রক্ষণশীল বা স্বার্থান্বেষী মহল ডিজিটাল বা কায়িক আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। ডা. মিতুর ওপর এই আক্রমণ মূলত ২০২৬ সালের আধুনিক রাজনীতিতে ‘ডিজিটাল প্যাট্রিয়ার্কি’ বা অনলাইন পুরুষতন্ত্রের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
ডা. মিতু অভিযোগ করেন, এই হেনস্তার পেছনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির কর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর দলের কর্মীদের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং এসব অনলাইন আক্রমণের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না।”
তিনি আরও দাবি করেন, একজন নারী নেতা হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলে তাঁর সক্রিয়তা এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের পক্ষে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়াটাই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করার মূল কারণ। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো হুমকিতেই তাঁর মনোবল ভাঙবে না।
ডা. মাহমুদা আলম মিতু ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলীয় টিমে ডেপুটি অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তাঁকে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এ জোটগত কৌশলের কারণে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তবে এরপরও তিনি দাঁড়িয়ে থাকেননি; দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের পক্ষে প্রচারণায় ঘাম ঝরাচ্ছেন তিনি।
সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ডা. মিতু বলেন, “একজন নারী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাকে এগোতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
সূত্র: যুগান্তর অনলাইন, এনসিপি মিডিয়া উইং, বিএসএস নিউজ ও স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সেল।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: এই প্রতিবেদনটি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পটভূমি মাথায় রেখে তৈরি। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি কেবল ব্যালটের যুদ্ধ নয়, এটি নারীদের রাজনৈতিক অধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তার এক অগ্নিপরীক্ষা। ডা. মিতুর ওপর এই আক্রমণ প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে ভিন্ন মত থাকলেও তা মোকাবেলায় অশালীনতা ও সাইবার অপরাধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু গণতন্ত্রের পথে অন্তরায়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |