প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বহু প্রতীক্ষিত ও ভাগ্যনির্ধারণী সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, এই নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের পছন্দমতো ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। একইসঙ্গে অর্জিত ভোটাধিকার যেন আর কেউ কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত ৯টায় রাজধানীর লালবাগ বালুর মাঠে (সাবেক আজাদ মাঠ) নির্বাচনি শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, "গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তাতে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচনে মানুষ নিজের ভোট নিজে দেবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে, যিনি সুখে-দুঃখে সব সময় মানুষের পাশে থাকবেন।" তিনি সতর্ক করে বলেন, দেড় বছর আগে বিতাড়িত স্বৈরাচারের ধারাবাহিকতায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা গোপন ব্যালটের সিল তৈরি ও ডিজিটাল মাধ্যমে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করে এনআইডি ও বিকাশ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অপকৌশল রুখে দিতে হবে।
বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনকল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান:
ফ্যামিলি কার্ড: গৃহিণী ও নারীপ্রধান পরিবারের জন্য প্রতি মাসে সরাসরি আর্থিক সহায়তা।
কৃষি কার্ড: কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছাতে বিশেষ কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ।
প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের কর্মস্থল ও দেশে ফেরার পর সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা।
বেকারত্ব দূরীকরণ: বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কলকারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় আইটি ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য জামানতবিহীন সরকারি ঋণ।
স্বাস্থ্যসেবা: এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেবেন।
ঢাকা সংস্কার: বর্ষার আগেই খাল খনন করে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বাঁক বদলগুলো তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই সুদীর্ঘ সময়ে এদেশের মানুষের লড়াই ছিল মূলত ভোটাধিকার ও মর্যাদার।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৪৬-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়।
১৯৭০: পাকিস্তানের অধীনে ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
১৯৭৫ - ১৯৯০: বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং পরবর্তীতে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার।
২০২৪: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে।
২০২৬: তারেক রহমানের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চূড়ান্ত সার্থকতা। এটি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সকল ধর্মের (মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান) মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার নির্বাচন।
আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রচারণার শেষ দিনে সারা দেশের চিত্র ছিল উৎসবমুখর ও টানটান উত্তেজনায় ঘেরা। ইসি সচিব জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এবারের ফল দ্রুত প্রকাশ পাবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এই নির্বাচন গণতন্ত্র চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। প্রচারণা শেষে তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরেছেন, যা সমর্থকদের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি 'স্টেটম্যানসুলভ' ভিশন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাগুলো তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি অবাধ নির্বাচনই পারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে। তারেক রহমানের এই 'দেশ গঠনের আহ্বান' সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল, বাসস এবং লালবাগ জনসভার সরাসরি প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |