প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তর রাজনৈতিক জাগরণ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—বরিশালের মাটি সবসময়ই সাহসী নেতৃত্বের জন্ম দিয়েছে। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে এসে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনটি বিএনপির দখলে আসার পাশাপাশি এলাকার কৃতি সন্তান জহির উদ্দিন স্বপন নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত গোটা বরিশাল।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে বরিশালের নেতাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি মোড়েই বরিশালের বিপ্লবীরা রাজপথ কাঁপিয়েছেন। জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল আশির দশকে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে তাঁর সাহসী ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা মূলত ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা বরিশালের লড়াকু রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরই এক আধুনিক সংস্করণ।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামরুল ইসলাম খানকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদে পা রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল একজন ব্যক্তির জয় নয়, বরং এটি ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে দক্ষিণবঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের এক বড় ইঙ্গিত।
জহির উদ্দিন স্বপন কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন অভিজ্ঞ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে সরকারি স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’-এর এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দক্ষতা ২০২৬ সালের এই নতুন সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
দলীয় প্রধান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে জহির উদ্দিন স্বপন এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা এই নেতার হাত ধরে দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন আসবে বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামের সন্তান স্বপন মন্ত্রী হওয়ায় গৌরনদী-আগৈলঝাড়া এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, ১৯০০ সালের সামন্ততান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে ২০২৬ সালের এই মেধাভিত্তিক ও দক্ষ নেতৃত্বই পারবে বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে স্বপনের কারাবরণ ও ত্যাগ তাকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে গেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), যুগান্তর অনলাইন, বরিশাল প্রতিনিধি প্রতিবেদন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এই নতুন মন্ত্রিসভায় জহির উদ্দিন স্বপনের অন্তর্ভুক্তি কেবল আঞ্চলিক কোটা নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও মেধার প্রতিফলন। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা বরিশালের প্রথাগত রাজনীতির সাথে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করবেন। এটি ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |