বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের ৯ মার্চ (সোমবার), ফেনীর এক মতবিনিময় সভায় আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জুলাই বিপ্লবের অঙ্গীকার নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সাহসী বক্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান ভূমিকার কঠোর সমালোচনা।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মুজিবুর রহমান মঞ্জুর মতে:
অঙ্গীকার লঙ্ঘন: সব দলের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন না তোলার লিখিত অঙ্গীকার থাকলেও, এখন বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
বিএনপি নেতাদের দিকে আঙুল: এবি পার্টি চেয়ারম্যান সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এই সনদকে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে প্রশ্নবিদ্ধ করার পেছনে বিএনপির কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে, যা বিপ্লবের স্পিরিটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রতি মঞ্জু কয়েকটি মৌলিক ও আবেগপ্রবণ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:
অসাংবিধানিক গুম: "গুম করা বা কাউকে দেশান্তরি করা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?"—এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, স্বয়ং সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং তারেক রহমান একসময় বিচারহীনতা ও অসাংবিধানিক আচরণের শিকার হয়েছিলেন।
ফিরে আসার আইনি ভিত্তি: সংবিধানে গুম হওয়া বা পুনরায় ফিরে আসার কোনো অনুচ্ছেদ নেই, তবুও তারা ফিরে এসেছেন এবং জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন—এটি মূলত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেরই ফসল। তাই এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে অবদমন করা অনুচিত।
ফেনীর স্থানীয় রাজনীতি এবং বিগত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে মঞ্জু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন:
নির্বাচনী সহিংসতা: নির্বাচন চলাকালীন এবি পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর নির্দয় হামলার অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে শাহ আলম বাদল ও আবদুর রহিমের ওপর আক্রমণের কথা উল্লেখ করেন, যার কোনো বিচার প্রশাসন করেনি।
অনিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজি: বর্তমানে ফেনীতে বিএনপির এক ছাত্রনেতার চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার মিলছে না বলে তিনি দাবি করেন।
মঞ্জু স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যারা গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বাইরে ছিলেন, তাদের ভূমিকা থাকলেও বর্তমানের ভুল পদক্ষেপগুলো যদি জনআকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে যায়, তবে তার ফল ভোগ করতে হবে। কারণ "ছেলে হারানো মায়ের চোখের পানি ইতিহাস থেকে মুছে যাবে না।"
২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এবি পার্টি চেয়ারম্যানের বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্রুবসত্য তুলে ধরে—বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা যেন কোনো বিশেষ দলের একক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়। বড় দলগুলো যদি ছোট দলগুলোকে অবজ্ঞা করে বা ‘জুলাই সনদ’-এর মতো জাতীয় ঐকমত্যের দলিলকে পাশ কাটিয়ে চলতে চায়, তবে তা নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ফেনীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় সুশাসন নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা নতুন সরকারের জন্য একটি এসিড টেস্ট।
তথ্যসূত্র: ফেনী স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা (৯ মার্চ ২০২৬), এবি পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং পালস বাংলাদেশ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিক্স।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও এবি পার্টির পরবর্তী মুভমেন্ট সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |