শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান দেশবন্ধু তেন্নাকুন নিখোঁজ: গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, দেশজুড়ে উদ্বেগ
শ্রীলঙ্কার পুলিশের প্রধান, আইজিপি দেশবন্ধু তেন্নাকুন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যা শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর, দেশবন্ধু তেন্নাকুন একটি তল্লাশি অভিযানে নেতৃত্ব দেন, যা ওয়েলিগামার একটি হোটেলে পরিচালিত হয়। অভিযোগ ছিল, ওই হোটেলে বেআইনি মাদক ব্যবসা চলছে। তবে, পুলিশ যে ইউনিটটি ওই হোটেলে তল্লাশি চালাতে যায়, তারা স্থানীয় পুলিশকে অজ্ঞাতসারে অপারেশনটি সম্পর্কে জানায়নি, যার ফলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এই তল্লাশি অভিযানে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন, আর একজন গুরুতর আহত হন। যদিও, হোটেলটি তল্লাশি করা হলেও সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হলে, আইজিপি তেন্নাকুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি এই অভিযানটি পরিচালনা করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে খণ্ডিত হয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই, আদালত তেন্নাকুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার কর্তব্য পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভিতর গুরুতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সফরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।
তবে, পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে খুঁজে পায়নি। তার বাড়িতে শুধুমাত্র তার দেহরক্ষীরা ছিল, এবং তেন্নাকুনের অবস্থান নিয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে, শ্রীলঙ্কার পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে তেন্নাকুনের নিয়োগটি বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। তার নিয়োগের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এমনকি তার পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ নিয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল, যার কারণে এই পদক্ষেপটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছিল।
তবে, আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর, তেন্নাকুন পুলিশের বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তার এই তল্লাশি অভিযান এবং subsequent ঘটনাগুলোর ফলে তার ওপর ভরসা কমে গেছে।
আইজিপি তেন্নাকুনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির এভাবে নিখোঁজ হওয়া দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, কিন্তু তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জনগণের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তবে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তেন্নাকুনকে খুঁজে বের করার জন্য সকল উপায় গ্রহণ করবে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করবে। তেন্নাকুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করেছেন, তা সরকারের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এখন পর্যন্ত তেন্নাকুনের অবস্থান নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, কিন্তু তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এক বিশাল উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার গ্রেফতারি পরোয়ানা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক এবং আইনগত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জনগণের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার প্রতি আস্থা রাখতে এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে। তেন্নাকুনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |