দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ঈদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন ও নির্বাসন শেষে নিজ মাতৃভূমিতে প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরার পর এটিই তাঁর প্রথম স্বদেশী ঈদ, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে এদেশের মানুষ স্বাধিকারের লড়াই করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্রের লড়াই এই ভূখণ্ডের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময়টি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল পরিবর্তনের বছর। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের এই ঈদ উদযাপনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। গত ৩০ ডিসেম্বর মা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল, সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আজ তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশ গড়ার নতুন শপথ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে যমুনায় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তের সূচনা করেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম-ওলামা, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন।
যমুনার এই মিলনমেলায় দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশ এখন ঐক্যের পথে হাঁটছে। ১৯০০ সালের সেই অধিকার আদায়ের চেতনা আজ যেন এই নতুন নেতৃত্বে পূর্ণতা পাচ্ছে।
যমুনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সপরিবারে শেরেবাংলা নগরে যান। সেখানে তিনি তাঁর বাবা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া শেষে তিনি গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তাঁর এই আবেগঘন দিনটি অতিবাহিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক উত্থান-পতন এলেও বর্তমান সরকারের অধীনে যে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তা নজিরবিহীন। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে তারেক রহমানের এই নেতৃত্ব গ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই ঐক্যের রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (প্রেস উইং), যমুনা ডায়েরি, যুগান্তর এবং রাজনৈতিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী চেতনা থেকে ২০২৬ সালের এই সংস্কারমুখী বাংলাদেশ—প্রতিটি পর্যায়ই আমাদের শিখিয়েছে ধৈর্য ও লড়াইয়ের গুরুত্ব। দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশী ঈদ উদযাপন কেবল একটি ব্যক্তিগত আনন্দ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্জন্মের প্রতীক। মা-বাবার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধা ২০২৬ সালের নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনন্য বার্তা।
সুত্র: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং যুগান্তর অনলাইন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |