| বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে ইরানের ২২টি ড্রোন ভূপাতিত: জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-03-2026 ইং
  • 1609949 বার পঠিত
সৌদি আরবে ইরানের ২২টি ড্রোন ভূপাতিত: জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: সৌদি আরবে ইরানের ২২টি ড্রোন ভূপাতিত

সৌদি আরবে ইরানের ২২ ড্রোন হামলা প্রতিহত: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের পদধ্বনি ও জ্বালানি শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রিয়াদ ও ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সংঘাতের জেরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে ইরানের পাঠানো ২২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে জানা গেছে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের এই মুহুর্মুহু হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের লড়াই ও বর্তমান সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকে ব্রিটিশ ও ফরাসি প্রভাব, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লব—প্রতিটি ঘটনাই এই অঞ্চলের দেশগুলোকে মেরুকরণের পথে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে তেল আবিষ্কারের পর থেকে সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এক শতাব্দী ধরে চলছে।

২০২৪-২৫ সালের বৈশ্বিক অস্থিরতার পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান যুদ্ধটি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এক অশনি সংকেত। ১৯০০ সালের সেই পুরনো সাম্রাজ্যবাদী লড়াই আজ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ডিজিটাল যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন সরাসরি সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সৌদি আরবের সাফল্য

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আজ ভোরে পূর্বাঞ্চলে প্রথম দফায় ১০টি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এর কিছু সময় পর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই অঞ্চলে আরও ১২টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে ড্রোনগুলোর লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা নির্দিষ্ট করে না বললেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরবের প্রধান জ্বালানি স্থাপনাগুলোই ছিল ইরানি বাহিনীর মূল টার্গেট।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম

ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবং সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। যেহেতু মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ সরবরাহ করে, তাই এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওমান, কাতার এবং কুয়েতের মতো রাষ্ট্রগুলো ক্রমাগত উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করলেও ইরান তার 'প্রতিরোধের অক্ষ' (Axis of Resistance) নীতি থেকে সরছে না।

২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

১৯০০ সালের সেই ধ্রুপদী কূটনীতি থেকে ২০২৬ সালের এই ড্রোন যুদ্ধের যুগে একটি বিষয় স্পষ্ট—মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন কেবল কূটনীতির ওপর নয়, বরং সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর লজিস্টিক সহায়তার ফলে ইরান এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই হামলা অব্যাহত থাকে, তবে সৌদি আরব সরাসরি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটতে পারে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

সূত্র: এএফপি, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এক্স পোস্ট), রয়টার্স এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলই সবসময় যুদ্ধের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ২০২৬ সালের এই সংকটে ইরান প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পঙ্গু করে দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই সাফল্য সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।


সুত্র: এএফপি নিউজ এবং সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency