ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজারের বেশি প্রাণহানি: মধ্যপ্রাচ্যে শতাব্দীর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন এক বিশাল শ্মশানে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি' (এইআরএএনএ) এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, এই তথাকথিত 'অসম যুদ্ধে' সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক মানুষ ও শিশুরা।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে অর্থাৎ ১৯০০ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পশ্চিমা শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বারবার বিঘ্নিত করেছে। ১৯৫৩ সালের মোসাদ্দেক সরকারের পতন থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব—প্রতিটি ঘটনাই ইরানকে পশ্চিমা শক্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
২০২৪-২৫ সালের বৈশ্বিক অস্থিরতার পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান যুদ্ধটি ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই সাম্রাজ্যবাদী ভূ-রাজনীতি আজ আধুনিক মারণাস্ত্রের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। এইআরএএনএ-র দাবি অনুযায়ী, নিহত ৩,২২০ জনের মধ্যে অন্তত ১,৩৯৮ জনই বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ২১০ জন নিষ্পাপ শিশু রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সংকলিত তথ্যে ১,১৬৫ জন সামরিক কর্মী এবং ৬৫৭ জন 'অশ্রেণিবদ্ধ' ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তারা মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন, স্থানীয় সূত্র, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামলায় ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। বেসরকারি ও সরকারি তথ্যের এই ব্যবধান থাকলেও এটি স্পষ্ট যে, গত এক মাসেরও কম সময়ে ইরানের বিশাল জনগোষ্ঠী এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেসামরিক প্রাণহানি বেড়েই চলেছে।
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধকে মানবাধিকার কর্মীরা 'অসম যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারত মহাসাগরে মার্কিন ও ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পর সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের এই সংকট কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকারের জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
খতিব ও ধর্মীয় নেতারা বিভিন্ন ঈদ জামাতেও এই যুদ্ধ বন্ধের এবং ফিলিস্তিন ও ইরানের মানুষের জন্য বিশেষ মোনাজাত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার যে লড়াই ইরান শুরু করেছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এক চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।
বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ২০২৬ সালের এই যুদ্ধে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা থাকলেও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি এই সংঘাত দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে নিহতের সংখ্যা এবং মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যেকোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা, হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) এবং ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে আজ অবধি ইরানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও হামলা চালানো হলেও ২০২৬ সালের এই প্রত্যক্ষ যুদ্ধটি নজিরবিহীন। শিশুদের এই বিপুল প্রাণহানি বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের নৈতিক অবস্থানকে ইতিহাসের পাতায় বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সুত্র: আলজাজিরা এবং এইআরএএনএ (HRANA) রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |