বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও গ্লোবাল ইকোনমি এনালিস্ট)
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক নতুন এবং বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে তেহরান এবার এমন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। ইরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’-র ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে এবং এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে নিয়মিত ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণেই স্পষ্ট করেছেন যে, এই কৌশলগত অবস্থানকে তারা হাতছাড়া করবেন না।
বিশাল আয়ের লক্ষ্য: বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সফলভাবে টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যাবে।
হিসাব-নিকাশ: সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে যদি ২০ লাখ ডলার ফি নেওয়া হয়, তবে ইরানের মাসিক আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও (প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা) বেশি।
ইরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উদ্যোগকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
আরও পড়ুন:
‘দুঃখের দুয়ার’ বাব আল-মান্দাব বন্ধের হুমকিতে হুথিরা: বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা!
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি এক তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ইরান বুঝে গেছে যে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা কতটা সহজ ও সস্তা। আয়ের নতুন উৎস হিসেবে তারা এখন এই জলপথকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আদায়ের এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে:
গোপন অর্থ প্রদান: গুঞ্জন উঠেছে যে, কিছু বড় জাহাজ কোম্পানি নিরাপদ পারাপারের নিশ্চয়তা পেতে ইতিমধ্যেই ইরানকে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া শুরু করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, সামরিক শক্তির চেয়েও এখন ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ যুদ্ধের বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ বিশ্লেষণ:
উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বিধ্বংসী রকেট ও ড্রোন হামলা: গোলান মালভূমিতে সামরিক ঘাঁটি টার্গেট।
ইরান যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায় এবং টোল আদায় শুরু করে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কল্পনা করাও কঠিন। এটি কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরানের একক আধিপত্য বিস্তারের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে এর সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।
CNN News: "Iran demands toll for Hormuz Strait passage as peace condition." (March 29, 2026).
Bloomberg Economics: Analysis by Dina Esfandiary on Iran's economic strategy.
Tasnim News Agency: Speech highlights of Supreme Leader Mojtaba Khamenei.
বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |