গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাত ফিলিস্তিনি নিহত, মানবিক সংকট আরও গভীর
ফিলিস্তিনের গাজার অবরুদ্ধ মধ্যাঞ্চলে এক ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও অনেক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন অংশে ৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এক নতুন মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। আজ শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত রাতভর গাজার জয়তুন ও রাফা অঞ্চলে হামলা চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ একটি পরিবারের তিন সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (World Central Kitchen) এক কর্মীও। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আক্রমণ চালানোর মাত্রা আরও তীব্র করেছে, এবং এতে গাজার সাধারণ মানুষ আরও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সতর্ক করেছে যে, গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বর্তমানে তীব্র ক্ষুধা এবং অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন। গাজায় গত তিন সপ্তাহ ধরে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রবাহিত হতে পারছে না, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডাব্লিউএ) জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে মানবিক সহায়তা না পাওয়ায় গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হয়ে উঠছে।
এছাড়া, গাজার এই হত্যাযজ্ঞে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে সাড়ে ১৭ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে। এর ফলে গোটা অঞ্চলে একটি বিশাল মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ ঘটনা ইসরায়েলি সরকারের অব্যাহত হামলা এবং গাজার ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের প্রতিফলন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হলেও, সেগুলি প্রবাহিত হওয়ার জন্য একাধিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, ফলে মানুষজন মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।
বিশ্ববাসীকে আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, গাজার অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাসরত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মৌলিক জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সংগ্রাম করছে, এবং তাদের জন্য এক দ্রুত সহায়তার প্রয়োজন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |