প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: এএফপি, Reuters, Wilson Center, BBC, Economic Times, FT
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে। পূর্বে এপরিলেও তিনি ২৬% শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন, যা কার্যকর করার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার আগেই নতুন শুল্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে ফের তোপ দেগেছেন ট্রাম্প।
সঙ্গে তিনি জানিয়েছন—রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা হলে ভারতে আরোপিত হবে জরিমানা ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় নীতিগ্রন্থ অনুসারে।
এদিকে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে ভোলা-বঞ্চিত ভারতকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। একবার তিনি পাক-শেয়ারিত তেল চুক্তি ঘোষণা করে বললেন—“হোয়, হয়তো একদিন পাকিস্তান ভারতের কাছে তেল বিক্রি করবে।”
এই আবহেই প্রশ্ন উঠেছে: ট্রাম্পের নীতির কারণে ভারতে কী প্রভাব পড়বে, এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য কী বিকল্প পথ খোলা আছে?
“ভারত আমাদের বন্ধু, কিন্তু শুল্ক বেশি, নন-মনিটরি বাধা রয়েছে, রাশিয়া থেকে ক্রয় বড়”—এসব যুক্তি শুল্ক আরোপের ভিত্তিতে তিনি ব্যবহার করেছেন।
তিনি ব্রিকস চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দেখছেন এবং “ডলারের ওপর আক্রমণ হতে দিবে না” বলেও দৃঢ় হয়েছেন।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতীয় সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, “তারা যদি তাদের অর্থনীতিকে ভাঙতে চায়, তাহলে দিন”।
মাইকেল কুগেলম্যান (Wilson Center): “চুক্তি এখনো সম্ভব, কিন্তু ভারত ইতোমধ্যে অনেক ছাড় দিয়েছে—রাজনৈতিকভাবে আর কম যাওয়ার শক্তি নেই।”
উপমন্যু বসু (IIRIS): “ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চীনের জন্য সুবিধাজনক, ভারতের জন্য জটিলতা। ভারতের উচিত আত্মনির্ভরতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা।”
ড. গীতাঞ্জলি সিনহা রায় (Jindal School): “বাণিজ্য সমস্যা হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাবে না, কারণ তা কৌশল, অর্থনীতি ও কৌশল সংক্রান্ত ব্যাপার।”
| সময়কাল | ঘটনা ও পরিপ্রেক্ষিত |
|---|---|
| ১৯৫০–৬০ | ভারত নন-অ্যালাইনড নীতি অনুসরণ, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। |
| ১৯৯৮ | পারমাণবিক পরীক্ষায় তথ্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চাপায়। |
| ২০১৪–২০ | Make in India ও Atmanirbhar Bharat–এর উদ্বোধন করে ভারত নিজের উৎপাদন শক্তি বাড়ায়। |
| ২০২২ | রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান, প্রতিরক্ষা ও তেল আমদানিতে বিরামহীনতা। |
| ২০২৫ (ফেব্রুয়ারি) | মোদি ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় Mission‑500 লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, যা এখন থমকে গেছে। |
চামড়া, মেরিন ও গহনা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ এরা শ্রমনির্ভর রফতানি পণ্য।
ঔষধ, অটোমোবাইল ও প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব পড়বে—কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আমদানিকারক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক চাপ তৈরি হবে।
আর্থিক মার্কেট ও মুদ্রা: রুপির মানে প্রায় ২% পতন, বিদেশি বিনিয়োগে অস্থিরতা বাড়ছে।
মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: সম্ভাব্য পতন, বিশেষ করে রফতানি নির্ভর শিল্পে।
ট্রাম্পের সঙ্গে আবার দর-কষাকষি করে শুল্ক কমানোর কৌশল গ্রহণ করা।
ইউরোপীয় দেশ, যুক্তরাজ্য ও জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাড়ানো।
আত্মনির্ভর ভারত ধারণার উৎসাহ দেওয়া ও উৎপাদন হাব হিসেবে দেশ গঠন।
BRICS ও G20 ফ্রেমওয়ার্কে বহুমাত্রিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
এই মুহূর্তে, ট্রাম্পের ঘোষিত ২৫% শুল্ক শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আত্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলে। ভারতের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে রক্ষা করা যাবে?
রাশিয়াসহ ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক কীভাবে চালিয়ে নেওয়া উচিত?
ওভারডিপেনডেন্টি এড়িয়ে নিজস্ব শিল্প ও তৈরি দেশ হিসেবে অবস্থান কোন দিকে গড়ে তোলা হবে?
এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে ভারতের সামনে এখন জটীয় পথ—যেখানে সমঝোতা, কৌশল ও আত্মনির্ভরতা সমান্তরালভাবে দরকার।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |