| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতে শুল্ক সংকট: ট্রাম্পের মনীষা, ভারতে প্রভাব ও বিকল্প পথ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 3534574 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র-ভারতে শুল্ক সংকট: ট্রাম্পের মনীষা, ভারতে প্রভাব ও বিকল্প পথ
ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাষ্ট্র-ভারতে শুল্ক সংকট

🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক: শুল্ক সংকট থেকে রাজনৈতিক সংকটের দোরগোড়ায়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: এএফপি, Reuters, Wilson Center, BBC, Economic Times, FT

ট্রাম্পের নতশক্‌নি: উচ্চ শুল্ক, কড়া বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে। পূর্বে এপরিলেও তিনি ২৬% শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন, যা কার্যকর করার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার আগেই নতুন শুল্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে ফের তোপ দেগেছেন ট্রাম্প।
সঙ্গে তিনি জানিয়েছন—রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা হলে ভারতে আরোপিত হবে জরিমানা ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় নীতিগ্রন্থ অনুসারে।

এদিকে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে ভোলা-বঞ্চিত ভারতকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। একবার তিনি পাক-শেয়ারিত তেল চুক্তি ঘোষণা করে বললেন—“হোয়, হয়তো একদিন পাকিস্তান ভারতের কাছে তেল বিক্রি করবে।”

এই আবহেই প্রশ্ন উঠেছে: ট্রাম্পের নীতির কারণে ভারতে কী প্রভাব পড়বে, এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য কী বিকল্প পথ খোলা আছে?

ট্রাম্প কী বলেছেন?

  • “ভারত আমাদের বন্ধু, কিন্তু শুল্ক বেশি, নন-মনিটরি বাধা রয়েছে, রাশিয়া থেকে ক্রয় বড়”—এসব যুক্তি শুল্ক আরোপের ভিত্তিতে তিনি ব্যবহার করেছেন।

  • তিনি ব্রিকস চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দেখছেন এবং “ডলারের ওপর আক্রমণ হতে দিবে না” বলেও দৃঢ় হয়েছেন।

  • রাশিয়ার সঙ্গে ভারতীয় সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, “তারা যদি তাদের অর্থনীতিকে ভাঙতে চায়, তাহলে দিন”।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যে: জটিলতা ও বাস্তবতা

  • মাইকেল কুগেলম্যান (Wilson Center): “চুক্তি এখনো সম্ভব, কিন্তু ভারত ইতোমধ্যে অনেক ছাড় দিয়েছে—রাজনৈতিকভাবে আর কম যাওয়ার শক্তি নেই।”

  • উপমন্যু বসু (IIRIS): “ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চীনের জন্য সুবিধাজনক, ভারতের জন্য জটিলতা। ভারতের উচিত আত্মনির্ভরতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা।”

  • ড. গীতাঞ্জলি সিনহা রায় (Jindal School): “বাণিজ্য সমস্যা হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাবে না, কারণ তা কৌশল, অর্থনীতি ও কৌশল সংক্রান্ত ব্যাপার।”

১৯৫০–২০২৫ সামরিক ও কূটনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত

সময়কালঘটনা ও পরিপ্রেক্ষিত
১৯৫০–৬০ভারত নন-অ্যালাইনড নীতি অনুসরণ, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে।
১৯৯৮পারমাণবিক পরীক্ষায় তথ্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চাপায়।
২০১৪–২০Make in India ও Atmanirbhar Bharat–এর উদ্বোধন করে ভারত নিজের উৎপাদন শক্তি বাড়ায়।
২০২২রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান, প্রতিরক্ষা ও তেল আমদানিতে বিরামহীনতা।
২০২৫ (ফেব্রুয়ারি)মোদি ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় Mission‑500 লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, যা এখন থমকে গেছে।
শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব
  • চামড়া, মেরিন ও গহনা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ এরা শ্রমনির্ভর রফতানি পণ্য।

  • ঔষধ, অটোমোবাইল ও প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব পড়বে—কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আমদানিকারক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক চাপ তৈরি হবে।

  • আর্থিক মার্কেট ও মুদ্রা: রুপির মানে প্রায় ২% পতন, বিদেশি বিনিয়োগে অস্থিরতা বাড়ছে।

  • মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: সম্ভাব্য পতন, বিশেষ করে রফতানি নির্ভর শিল্পে।

বিকল্প পথ: ভারতের সম্ভাবনা

  1. ট্রাম্পের সঙ্গে আবার দর-কষাকষি করে শুল্ক কমানোর কৌশল গ্রহণ করা।

  2. ইউরোপীয় দেশ, যুক্তরাজ্য ও জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাড়ানো।

  3. আত্মনির্ভর ভারত ধারণার উৎসাহ দেওয়া ও উৎপাদন হাব হিসেবে দেশ গঠন।

  4. BRICS ও G20 ফ্রেমওয়ার্কে বহুমাত্রিক সম্পর্ক বজায় রাখা

উপসংহার

এই মুহূর্তে, ট্রাম্পের ঘোষিত ২৫% শুল্ক শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আত্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলে। ভারতের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:

  • দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে রক্ষা করা যাবে?

  • রাশিয়াসহ ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক কীভাবে চালিয়ে নেওয়া উচিত?

  • ওভারডিপেনডেন্টি এড়িয়ে নিজস্ব শিল্প ও তৈরি দেশ হিসেবে অবস্থান কোন দিকে গড়ে তোলা হবে?

এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে ভারতের সামনে এখন জটীয় পথ—যেখানে সমঝোতা, কৌশল ও আত্মনির্ভরতা সমান্তরালভাবে দরকার।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency