| বঙ্গাব্দ

গণভোটের দাবি: রংপুরে জামায়াতের সমাবেশে গোলাম পরওয়ারের হুঁশিয়ারি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-09-2025 ইং
  • 3234463 বার পঠিত
গণভোটের দাবি: রংপুরে জামায়াতের সমাবেশে গোলাম পরওয়ারের হুঁশিয়ারি
ছবির ক্যাপশন: গোলাম পরওয়ারের হুঁশিয়ারি

“গণভোট দিন, গায়ের জোরে ক্ষমতা নয়”—রংপুর সমাবেশে জামায়াতের গোলাম পরওয়ার

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

সমাবেশে সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,

“গায়ের জোরে দেশ শাসনের দিন শেষ হয়ে গেছে। বিরোধী দলকে দমন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন যারা দেখেন, সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। সাহস থাকলে গণভোট দেন। জনগণের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা রাখি।”

তিনি এ কথা বলেন শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) জুমার নামাজের পর রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে।

বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন মানতে নারাজ

গোলাম পরওয়ার বলেন,

  • “গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না করে বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোয় যদি আবার নির্বাচন হয়, তাহলে আরেকটি হাসিনার জন্ম হবে, আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। বাংলার মানুষ তা হতে দেবে না।”

তিনি সতর্ক করে দেন যে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR system) না থাকলে দেশ আবারও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার দিকে যাবে।

পিআর ও সংবিধান ইস্যুতে প্রশ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন:

“যখনই পিআর পদ্ধতির কথা বলি, তখনই সংবিধান দেখান। কিন্তু সংবিধান মানলে তো আপনারা অবৈধ। শেখ হাসিনার সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পর ২০২৯ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা। তাহলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা কেন বলছেন?”

গণভোটের দাবি

তিনি আরও বলেন:

  • সার্ভেতে ৭০ শতাংশ মানুষ পিআরের পক্ষে মত দিয়েছে।

  • ঐকমত্য কমিশনে ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে

  • তারপরও পিআরকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।

তার বক্তব্যে কড়া সুর:

“কেউ কেউ বলছে পিআর খায় না মাথায় দেয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ কথা বলতে পারে না। সাহস থাকলে গণভোট দিন। জনগণ যদি পিআরের বিপক্ষে যায়, জামায়াতও মেনে নেবে। কিন্তু সরকার গণভোটকে ভয় পাচ্ছে।”

ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে পিআর অপরিহার্য

তিনি বলেন,

“পিআরের মাধ্যমে সবার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যদি পেশিশক্তি ও কালো টাকামুক্ত মানসম্পন্ন সংসদ গড়ে ওঠে, তাহলে কোনো দলের পক্ষে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে না। তাই তারা পিআর ঠেকাতে চায়।”


বিশ্লেষণ

১. পিআর বনাম প্রচলিত পদ্ধতি – জামায়াতসহ একাধিক দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দাবি করছে, তবে বিএনপি এই প্রস্তাবে একমত নয়। ফলে বিরোধী শিবিরের ভেতরেই বিভক্তি তৈরি হচ্ছে।

২. গণভোট রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে – গোলাম পরওয়ার গণভোটের দাবি উত্থাপন করায় বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার যদি এই দাবি মানে না, তাহলে তা আরও আন্দোলনের ইন্ধন জোগাবে।

৩. ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা – বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন হলে “আরেকটি হাসিনা” জন্ম নেবে—এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জামায়াত জনগণকে সতর্কবার্তা দিতে চাইছে।

৪. অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ – আন্দোলন ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশনে সমাধান না হলে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।


সূত্র

  1. যুগান্তর পত্রিকা, রাজনৈতিক প্রতিবেদন (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)

  2. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, জুলাই সনদ ও পিআর ইস্যু

  3. উইকিপিডিয়া: July Charter, Aftermath of the July Revolution in Bangladesh

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency