পশ্চিম তীরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ, কুরআন পুড়িয়ে উত্তাল ফিলিস্তিন–নিন্দায় জাতিসংঘ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনজুড়ে ধর্মীয় স্থাপনায় আগ্রাসন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। টানা দুই বছরের বর্বর হামলায় গাজার এক হাজার ২৪৫ মসজিদের মধ্যে এক হাজার ১০৯টি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। একই সঙ্গে অধিকৃত জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদের চত্বরে গোপন সুড়ঙ্গ খননের অভিযোগ উঠেছে, যাতে সামান্য ভূমিকম্প বা ধাক্কায় ঐতিহাসিক এই মসজিদে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এরই মধ্যে পশ্চিম তীরে একটি মসজিদে বসতি স্থাপনকারীদের অগ্নিসংযোগ নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে সালফিত এলাকার কাছে দেইর ইস্তিয়া গ্রামের হাজ্জা হামিদা মসজিদে হামলা চালায় ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা মসজিদের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মসজিদের ভেতরের একাংশ, দেয়াল এবং নামাজের কার্পেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, মসজিদে থাকা পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি কপি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া শরিফ কুরআনের পাতা, কালো হয়ে যাওয়া মসজিদের দেয়াল এবং ভেতরের দগ্ধ অংশ।
অগ্নিসংযোগের পর মসজিদের বাইরের দেয়ালে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে বসতি স্থাপনকারীরা একাধিক বর্ণবিদ্বেষী ও ফিলিস্তিনবিরোধী স্লোগান লিখে যায়। গ্রাফিতিতে লেখা ছিল—
“আমরা ভয় পাই না”
“আমরা আবার প্রতিশোধ নেব”
“নিন্দা চালিয়ে যাও”
ফিলিস্তিনিরা বলছেন, এসব বার্তা শুধু উস্কানি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে থাকা বসতি স্থাপনকারীদের সংগঠিত সন্ত্রাসের প্রকাশ।
ফিলিস্তিনি সূত্র ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, এটিই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ধারাবাহিক আগ্রাসনের অংশ। গাজায় মসজিদ ধ্বংস, আল-আকসা মসজিদে প্রতিদিনের উসকানি, টেম্পল মাউন্ট এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের উগ্র মিছিল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি টানটান।
শুধু গত সপ্তাহেই আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে প্রায় চার হাজার দখলদার প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে ফিলিস্তিনি ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ আছে, মসজিদের সীমানা ঘিরে গোপন সুড়ঙ্গ খনন করা হচ্ছে, যা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ভবিষ্যতে ধসের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে হাজ্জা হামিদা মসজিদে অগ্নিসংযোগকে “জঘন্য অপরাধ” ও “ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘৃণ্য প্রয়াস” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তারা বলেছে, এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে— অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থানও আর নিরাপদ নয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং কুরআন পুড়িয়ে ফেলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, উপাসনালয়ে হামলা “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে জাতিসংঘ “অত্যন্ত উদ্বিগ্ন”।
ডুজারিক আরও বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, কৃষিজমি ও জলপাই গাছ ধ্বংস এবং এখন মসজিদে আগুন দেওয়া—এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জাতিসংঘ পূর্বেও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও জানাবে।
মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা, জর্ডানিয়ান গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় মুসলিম বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আরব দেশগুলো ও বিভিন্ন ইসলামি সংস্থা এ হামলাকে “ধর্মীয় উস্কানি” ও “ইসরাইলি দখলদার নীতির সম্প্রসারিত অংশ” হিসেবে অভিহিত করছে।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, গাজায় মসজিদ ধ্বংস, আল-আকসা চত্বরে চিরচেনা উসকানি এবং পশ্চিম তীরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ—সবই মিলিয়ে একটি সংগঠিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়, যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং ধর্মীয় ও জাতীয় পরিচয় মুছে ফেলা।
১. মিডল ইস্ট আই – অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও গ্রাফিতি হামলার প্রতিবেদন
২. আল-জাজিরা – গাজায় মসজিদ ধ্বংস ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে অনুসন্ধানধর্মী রিপোর্ট
৩. জর্ডান নিউজ ও জাতিসংঘ ব্রিফিং – উপাসনালয়ে হামলা ও জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |