| বঙ্গাব্দ

প্রকল্প ব্যর্থতা: নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে হবে—পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-12-2025 ইং
  • 2262448 বার পঠিত
প্রকল্প ব্যর্থতা: নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে হবে—পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার
ছবির ক্যাপশন: প্রকল্প ব্যর্থতা

প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম ব্যর্থতা: নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে— বললেন পরিকল্পনা সচিব

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারি প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য কাগজে-কলমে যত সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়, বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করা হয় না। বরাদ্দ পাশ হয়ে গেলেই বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের অঙ্গীকার থেকে দূরে সরে যান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই অব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা না গেলে দেশের কোনো উন্নয়ন উদ্যোগই সফল হবে না।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আগারগাঁও এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এনার্জি রেজিলেন্স থ্রো রিনিউয়েবল ইন্টিগ্রেশন: দ্যা বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে সচিব এসব মন্তব্য করেন। এই সেমিনারটি মূলত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল, তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সচিবের এই মন্তব্য সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

কাগজের সৌন্দর্য, বাস্তবের দৈন্যতা

পরিকল্পনা সচিব তার বক্তব্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান গুরুতর দুর্বলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

"প্রকল্প পাশ করানোর জন্য শুরু থেকে যে কথাগুলো সুন্দরভাবে লিখি, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করি না। বরাদ্দ পাশ হলে বাস্তবায়নের ধারেকাছেও থাকি না।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কাগজে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুন্দরভাবে লিখে প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া হয়, "কিন্তু বাস্তবায়নের সময় সেগুলোর কোনো ধার ধারে না।"

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা জরুরি

সচিব এই অব্যবস্থাপনার জন্য ঢালাওভাবে একটি পুরো দলকে দায়ী করার প্রবণতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যখন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যর্থ হয়, তখন পুরো দলকে দায়ী করা হয়, যেমন ২০ জন, ২৫ জন বা ৩০ জনকে দায়ী করা হয়। কিন্তু তার মতে, এত লোক বাস্তবে ব্যর্থতার জন্য জড়িত থাকার কথা নয়।

এস এম শাকিল আখতার জোর দিয়ে বলেন:

"এই বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা যুক্ত, সেই নির্দিষ্ট লোকেদেরকে যদি ভবিষ্যতে শাস্তির আওতায় আনা না যায়, তবে কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না।"

তিনি বিশ্বাস করেন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সড়ক প্রকল্পের মতো ক্ষেত্রে কারা বাস্তবায়ন করছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব। কিন্তু যখন বাস্তবায়নের মেসেঞ্জার বা মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যর্থ হন, তখন পুরো দলকে দায়ী করা হয়, যা সঠিক নয়।

শাস্তির ব্যবস্থা চালু হলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে কঠোর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই পারে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন:

"যদি নির্দিষ্টভাবে লোকজনকে চিহ্নিত করা না যায় এবং শাস্তির নিশ্চয়তা না দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে আমাদের কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন, "যেদিন থেকে এই শাস্তির ব্যবস্থা চালু করা হবে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে, তার আগে নয়।"

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জবাবদিহিতা (১৯৫০-২০২৫)

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের একটি দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয়।

  • স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্নীতি ও প্রশাসনের দুর্বলতা দূর করার বিষয়ে বারবার তাগিদ দিয়েছেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানেই সুশাসন নিশ্চিত করার মূলনীতি সন্নিবেশিত হয়।

  • সামরিক ও গণতান্ত্রিক শাসনামল (১৯৮০-২০০০): এই সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং স্বচ্ছতার অভাব প্রায়শই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

  • একুশ শতকের সূচনা: ২০০০ সালের পর থেকে সরকারগুলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে একাধিক প্রশাসনিক সংস্কার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে ই-টেন্ডারিং এবং প্রকল্প মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা অন্যতম।

  • ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপট: সচিব এস এম শাকিল আখতারের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে, ২০২৫ সালেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়বদ্ধতা ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা বিদ্যমান, যা দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (যেমন ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) অর্জনে বড় বাধা। তার এই মন্তব্য প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তাকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।


সূত্র

১. পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারের সেমিনারে দেওয়া বক্তব্য। ২. আগারগাঁও এনইসি সম্মেলন কক্ষের সেমিনারের তথ্য। ৩. গুগল সার্চ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রকল্পের তথ্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency