প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন কঠোরতা প্রদর্শন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা-১৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রচারণা শুরু করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই শোকজ আদেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে প্রচারণা শুরু করার কথা থাকলেও মাওলানা মামুনুল হক গত ১৩ জানুয়ারি বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অনুসারীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছেন।
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ লঙ্ঘনের দায়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ১৭ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী এ বিষয়ে বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আচরণবিধি বজায় রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব। বিধি অনুযায়ী সময়ের আগে প্রচার চালানোর কোনো সুযোগ নেই।"
মাওলানা মামুনুল হকের এই শোকজ এবং বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার এই কঠোরতা বুঝতে হলে বাংলাদেশের গত এক শতাব্দীর রাজনৈতিক বিবর্তন দেখা প্রয়োজন।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের সূচনাকালে রাজনীতি ছিল মূলত সম্ভ্রান্ত ও আলেম সমাজের একটি বড় অংশ দ্বারা প্রভাবিত। তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
মুক্তির লড়াই (১৯৫২-১৯৭১): বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক লড়াই বারবার মোড় পরিবর্তন করেছে।
স্বৈরাচার পতন ও পরবর্তী রাজনীতি (১৯৯০-২০২৪): ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের পতনের পর ২০২৫ সাল জুড়ে রাষ্ট্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম চলে।
২০২৬ এর নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ: ২০২৫ সালের সংস্কারের সুফল হিসেবেই ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। যেখানে অতীতে প্রভাবশালী প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া হতো, সেখানে বর্তমান কমিশন মাওলানা মামুনুল হকের মতো জনপ্রিয় নেতাদেরও বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দলগুলো সব সময়ই একটি বিশেষ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর এই শোকজ ইস্যুটি ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক।
সূত্র: ১. ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত শোকজ নোটিশ (১৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের আচরণবিধি নির্দেশিকা ২০২৫-২৬। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও নির্বাচন ইতিহাস (১৯০০-২০২৬): গবেষণা ও আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |