| বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ হাবিবের নির্বাচনী অঙ্গীকার: প্রতিহিংসামুক্ত ও আধুনিক এলাকার স্বপ্ন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-01-2026 ইং
  • 1370355 বার পঠিত
ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ হাবিবের নির্বাচনী অঙ্গীকার: প্রতিহিংসামুক্ত ও আধুনিক এলাকার স্বপ্ন
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ হাবিবের নির্বাচনী অঙ্গীকার

ঢাকা-৯ আসনের রূপরেখা: ‘প্রতিহিংসা নয়, নাগরিক অধিকারই বিএনপির লক্ষ্য’— হাবিবুর রশিদ হাবিব

বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ এখন নির্বাচনী আমেজে মুখরিত। শনিবার (৩১ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর মান্ডা ট্রাকস্ট্যান্ডে ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে একটি আধুনিক ও মানবিক ঢাকা-৯ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের মর্যাদা রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন হাবিব। তিনি বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের স্বাধীনতা ও মানচিত্র উপহার দিয়েছেন, আর বেগম খালেদা জিয়া দিয়েছেন ভোটাধিকারের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।" ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ ২০২৬-এর এই নির্বাচনকে এক নতুন অর্থ দিয়েছে।

ঢাকা-৯: বঞ্চনা বনাম উন্নয়নের অঙ্গীকার

মান্ডার অলিগলি ঘুরে বেড়ে ওঠা হাবিবুর রশিদ হাবিব নিজেকে মাটির সন্তান দাবি করে বলেন, "আমি এই এলাকার ৫৩ বছরের বাসিন্দা। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে আছি।" তিনি ঢাকা-৯ এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন:

  • নাগরিক সংকট: তীব্র গ্যাস ও পানি সংকট, জলাবদ্ধতা এবং অনুন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা।

  • মানবিক অভাব: মানসম্মত খেলার মাঠ, পার্ক এবং এমনকি পর্যাপ্ত কবরস্থানের অভাব।

  • গৃহিনীদের দুর্ভোগ: গ্যাস সংকটের কারণে মা-বোনদের রাত জেগে রান্না করার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

৩১ দফার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ

হাবিবুর রশিদ হাবিব ঘোষণা করেন যে, তারেক রহমানের ঘোষিত '৩১ দফা' রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ঢাকা-৯ এলাকায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তারেক রহমানকে ‘যোগ্য পিতা-মাতার যোগ্য উত্তরসূরি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আগামীর বাংলাদেশ হবে সম্প্রীতির, যেখানে কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না।"

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

নির্বাচনী জনসভায় তিনি এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। হাবিব বলেন, "ঢাকা-৯ হবে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা। আমার দলের কোনো নেতাকর্মী যদি এসব অপকর্মে জড়িত হয়, তবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না; সরাসরি আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।" তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা শুধু ভোটের সময় এলাকায় আসে, তাদের প্রত্যাখ্যান করে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে থাকা সঙ্গীদের বেছে নিতে।

বক্তাদের আলোচনা ও উপস্থিতি

জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের নির্বাচন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উপসংহার

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক পরীক্ষা। ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ হাবিবের এই নির্বাচনি জনসভা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন অধিকার ও মৌলিক সুবিধার প্রশ্নে আপসহীন। মান্ডার এই জনসমুদ্র থেকে পরিবর্তনের যে সুর উঠেছে, তা আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশেরই পূর্বাভাস।


সূত্র: বাসস, প্রথম আলো (জানুয়ারি ২০২৬), বিএনপি মিডিয়া সেল, এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency