প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শুভকামনা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা এরশাদ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধৈর্যশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিদিশার এই চিঠি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ ও জাতীয় ঐক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিদিশা এরশাদ তার চিঠিতে লিখেছেন, “দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সময়, ধৈর্য, আত্মসংযম আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক দীর্ঘ পরীক্ষার ভেতর দিয়ে আপনাকে যেতে হয়েছে।” তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিই আজ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও যোগ করেন, “একটি দেশ যখন স্থিরতা ও আস্থা খোঁজে, তখন নেতৃত্ব শুধু ক্ষমতার বিষয় থাকে না; তা হয়ে ওঠে দায়িত্ব ও প্রত্যাশার ভার।” তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় হবে এবং মানুষ আবার রাষ্ট্রের ওপর ভরসা করতে পারবে—এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বাংলার রাজনৈতিক পটভূমিতে ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেতৃত্বের পরিবর্তন ও সংহতির চিত্র বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের বিজয়—সবই ছিল অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম।
১৯৫২ - ১৯৭১: ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবং ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয়; প্রতিটি ধাপে বাঙালি জাতি নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে।
১৯৯০ - ২০২৪: ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে ক্ষমতার যে পালাবদল শুরু হয়, তা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর এক নতুন মোড় নেয়।
২০২৬-এর বাস্তবতা: ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে জয়লাভের পর দেশ এখন এক ‘সংস্কারমুখী’ সরকারের অপেক্ষায়। বিদিশা এরশাদের এই অভিনন্দন বার্তা মূলত সেই স্থিতিশীল আগামীর প্রতিচ্ছবি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা। তিনি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
এরই মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে তারেক রহমানের বৈঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাথে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯০০ সালের লখনউ চুক্তি বা ১৯৯০-এর জোটবদ্ধ আন্দোলনের মতো ২০২৬ সালের এই ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক ধারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
১৯০০ সালের উত্তাল পরাধীন বাংলা থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—রাজনীতি এখন আর কেবল বিভাজনের নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জাতীয় ঐক্যের। বিদিশা এরশাদের শুভেচ্ছা বার্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ এক শান্ত ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যতের পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
সূত্র: বিদিশা এরশাদের খোলা চিঠি (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রাজনৈতিক আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন: এই প্রতিবেদনে বিদিশা এরশাদের চিঠির মূল বক্তব্যকে ১৯০০-২০২৬ সালের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রার সফর এবং শপথ গ্রহণের প্রস্তুতির তথ্যটি প্রতিবেদনের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |