প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রশাসনিক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাঙালির জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০০ সালের পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ঢাবি উপাচার্য ও শিক্ষকদের সাহসী ভূমিকা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপাচার্যদের পদত্যাগ বা পরিবর্তনের বিষয়টি গত কয়েক দশকে এক নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ পথচলায় দেখা গেছে, যখনই কোনো রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসে। অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী এক সংকটময় মুহূর্তে ‘আপৎকালীন’ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকগণ।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ আহমদ খান তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আপৎকালীন পরিস্থিতি এখন দূর হয়েছে এবং সার্বিক অবস্থা একটি ভালো পর্যায়ে রয়েছে। আমি এখন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক সরকার যেন তাদের পছন্দমতো ও লক্ষ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে, সেজন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্যের পদত্যাগপত্রটি দ্রুতই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী উপাচার্য, তা নিয়ে ক্যাম্পাসে ও শিক্ষা মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
| পদত্যাগকারী উপাচার্য | অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান |
| পদত্যাগের তারিখ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| পদত্যাগপত্র গ্রহণকারী | শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন |
| পদত্যাগের কারণ | রাজনৈতিক সরকারকে প্রশাসন সাজানোর সুযোগ দেওয়া |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু |
সূত্র: ১. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
২. শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের প্রেস ব্রিফিং।
৩. ১৯০০-২০২৬: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের নথি।
৪. অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ ও ট্রান্সক্রিপ্ট।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ একটি সম্মানজনক বিদায়ের উদাহরণ। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী প্রেক্ষাপট থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছে। নতুন সরকার এখন মেধাবী ও নিরপেক্ষ একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং উন্নয়নে মনোযোগী হবে—এমনটাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |