ঢাকার মসনদে আবারও ইশরাক ও নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনীতির নাভিকেন্দ্র ঢাকা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব—প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ঢাকাই ছিল আন্দোলনের সূতিকাগার। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের দিকে। নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েও এবার সরাসরি ঢাকার মেয়র পদে লড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।
ঢাকার নগর প্রশাসনের ইতিহাস দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি রাজনৈতিক সচেতনতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯০৬ সালে নবাব সলিমুল্লাহর বাসভবন আহসান মঞ্জিল থেকে শুরু হওয়া মুসলিম লীগের যাত্রা ঢাকাকে এক অনন্য পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে সাদেক হোসেন খোকার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালে এক ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল করে আদালত ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত হন। ১৯ শতকের গোড়ায় ঢাকার পঞ্চায়েত প্রধানরা যেমন প্রভাবশালী ছিলেন, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ইশরাক হোসেন এখন সেই প্রাজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সেতুবন্ধন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। কারণ, ইশরাক বর্তমানে সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান (৫৫,৬৯৭ ভোট)। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া এই মন্ত্রিসভার সদস্য কেন আবার মেয়র পদে লড়তে চান—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মেয়র পদে লড়ার ঘোষণার পর ইশরাকের এই ঘোষণা মূলত ঢাকার মাঠে বিএনপির আধিপত্য বজায় রাখার একটি বড় কৌশল। একদিকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, অন্যদিকে ঢাকার 'নগরপিতা' হওয়ার লড়াই—দুই মিলিয়ে ইশরাক হোসেন এখন টক অফ দ্য টাউন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় ঢাকার মেয়র পদটি সব সময় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করেছে। ইশরাক হোসেনের জন্য এই নির্বাচনটি হবে একাধারে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দলের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা। যদি তিনি মেয়র পদে লড়েন, তবে সংসদীয় আসন ও মন্ত্রিত্বের কী হবে, সেই সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে আসছে। তবে সব ছাপিয়ে ২০২৬ সালের ঢাকা এখন তরুণ নেতৃত্বের এক উত্তাল রাজনৈতিক রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর, ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজ (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), বিবিসি বাংলা, গুগল নিউজ আর্কাইভ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |