| বঙ্গাব্দ

মহাবিশ্বের বৃহত্তম ৩ডি মানচিত্র প্রকাশ; দেখা মিলল আদি আলোর সমুদ্রের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-03-2026 ইং
  • 796147 বার পঠিত
মহাবিশ্বের বৃহত্তম ৩ডি মানচিত্র প্রকাশ; দেখা মিলল আদি আলোর সমুদ্রের
ছবির ক্যাপশন: মহাবিশ্বের বৃহত্তম ৩ডি মানচিত্র প্রকাশ

মহাবিশ্বের বৃহত্তম ৩ডি ম্যাপ উন্মোচন; ৯০০ কোটি বছর আগের ‘আলোর সমুদ্র’ দেখল বিজ্ঞানীরা

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ ১১ মার্চ, ২০২৬ (বুধবার)। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল মানবজাতি। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি রহস্য উন্মোচনে টেক্সাসের ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা আজ প্রকাশ করেছেন মহাবিশ্বের বৃহত্তম এবং বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক (3D) মানচিত্র। এই মানচিত্রটি আমাদের নিয়ে গেছে আজ থেকে প্রায় ৯০০ থেকে ১১০০ কোটি বছর আগের এক সময়ে, যেখানে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ করেছেন আদি মহাবিশ্বের সেই বিশাল ‘আলোর সমুদ্র’।

১. লক্ষ্যমাত্রা: ডার্ক এনার্জি ও মহাবিশ্বের গঠন বোঝা এই বিশাল গবেষণা প্রকল্পের পেছনে বিজ্ঞানীদের প্রধান কিছু উদ্দেশ্য ছিল:

  • লুকানো মহাবিশ্ব দেখা: টেলিস্কোপে মহাবিশ্বের যে অংশগুলো আগে ‘অন্ধকার’ বা ফাঁকা মনে হতো, এই ম্যাপের মাধ্যমে সেখানে হাইড্রোজেন গ্যাসের বিশাল সব জালিকা (Filaments) খুঁজে পাওয়া গেছে।

  • ডার্ক এনার্জি রহস্য: মহাবিশ্ব কেন এবং কীভাবে এত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, সেই রহস্য সমাধানে এই মানচিত্রটি ‘রোডম্যাপ’ হিসেবে কাজ করবে।

  • ৬০০ মিলিয়ন তথ্য বিশ্লেষণ: বিজ্ঞানীরা ‘হবি-এবারলি টেলিস্কোপ’ ব্যবহার করে কয়েক লক্ষ গ্যালাক্সির বর্ণালী বিশ্লেষণ করে এই নিখুঁত ৩ডি ম্যাপটি তৈরি করেছেন।

২. কেন একে ‘আলোর সমুদ্র’ বলা হচ্ছে? গবেষকদের মতে, আদি মহাবিশ্বে যখন নক্ষত্র ও গ্যালাক্সিগুলো তৈরি হচ্ছিল, তখন প্রচুর পরিমাণ অতিবেগুনী রশ্মি নির্গত হতো। এই রশ্মিগুলো মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা হাইড্রোজেন গ্যাসকে উজ্জ্বল করে তুলত। মানচিত্রটিতে এই হাইড্রোজেন গ্যাসের উজ্জ্বল স্তরগুলোকে একটি প্রকাণ্ড এবং উত্তাল ‘আলোর সমুদ্রের’ মতো দেখাচ্ছে, যা মহাবিশ্বের কাঠামো ধরে রেখেছে।

৩. প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও লিগ্যাসির ধারাবাহিকতা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্ভব হয়েছে উন্নত এআই (AI) অ্যালগরিদম এবং সুপারকম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে। এর আগে ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্ট (DESI) যে কাজ শুরু করেছিল, আজকের এই ম্যাপটি তাকে আরও কয়েক গুণ পূর্ণতা দান করল। এটি আগামী শতকের মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি নতুন ভিত্তি বা ‘লিগ্যাসি’ তৈরি করল।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: আমরা এতদিন মহাবিশ্বের কেবল ৫% (দৃশ্যমান বস্তু) সম্পর্কে জানতাম। এই ৩ডি ম্যাপটি আমাদের বাকি ৯৫% রহস্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে। বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের অস্পষ্ট সিগন্যালগুলোকে একটি ম্যাপে রূপান্তর করা, যা বিজ্ঞানীরা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এটি আমাদের অস্তিত্বের আদি ইতিহাস জানার পথে এক বিশাল বিজয়।

তথ্যসূত্র: ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরি (১১ মার্চ ২০২৬), নেচার অ্যাস্ট্রোনমি ও নাসা (NASA)। মহাবিশ্বের রোমাঞ্চকর সব আবিষ্কারের খবর পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন:  বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency