বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ডাকসু মুহসিন হলের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর পৈত্রিক বাড়িতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সরেজমিনে সাইফুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের ঘরটি আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে এবং দক্ষিণ পাশের ঘরটিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সাইফুল্লাহর মা ও পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন। সাইফুল্লাহ নিজে ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না, তবে খবর পেয়ে আজ দুপুরে তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে পৌঁছেছেন।
এই হামলার ঘটনার সাথে গত ৮ মার্চের একটি ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছাত্রলীগ ধরার ঘটনা: গত ৮ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাহিদ খান পাভেল নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ।
ফেসবুক স্ট্যাটাস: ওই রাতে সাইফুল্লাহ লিখেছিলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” * হুমকি: সাইফুল্লাহর দাবি, এই ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল এবং এরই ধারাবাহিকতায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ সকালে সাইফুল্লাহর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এছাড়া আজ বিকেলে এনসিপি আহ্বায়ক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) নাহিদ ইসলামের ডোমঘাটা গ্রামে আসার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সফর প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের নিরাপত্তাকে দলটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এসপি সার্কেলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সাইফুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় সাইফুল্লাহর বাড়িতে এই বর্বরোচিত হামলা প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এখনো আমাদের সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর হয়নি। একদিকে ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ নির্মূলের চেষ্টা, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের পরিবারকে টার্গেট করা—এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। বিশেষ করে যেখানে এনসিপির শীর্ষ নেতারা সশরীরে উপস্থিত হচ্ছেন, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই ধরনের ঘটনা চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে। সাইফুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ময়মনসিংহের স্থানীয় খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |