| বঙ্গাব্দ

মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে ইরানের তেল বিক্রি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-07-2026 ইং
  • 1827 বার পঠিত
মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে ইরানের তেল বিক্রি
ছবির ক্যাপশন: ইরানের তেল বিক্রি

মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে গোপন রুটে কমছে না ইরানের তেল রপ্তানি: কেন্দ্রে মালয়েশিয়ার নোঙর এলাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাঁচ মাসব্যাপী সংঘাত এবং মার্কিন নৌবাহিনীর টানা কড়া অবরোধ থাকা সত্ত্বেও কমেনি ইরানের তেল বিক্রি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মালয়েশিয়া উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নোঙর এলাকাকে প্রধান অনানুষ্ঠানিক বাজার হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে তেহরান। মূলত সেখান থেকেই জলপথে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারের নজর এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পৌঁছে যাচ্ছে চীনে।

আলজাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট নজরদারির তথ্যে সমুদ্রপথে অবৈধ তেল বাণিজ্যের এই নতুন রুট ও নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।

ডার্ক' হয়ে পড়া জাহাজ এবং ইওপিএল-এর ভূমিকা

গত শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) ইরানের অপরিশোধিত তেলবাহী ৩৩০ মিটার দীর্ঘ বিশাল জাহাজ ‘হিউম্যানিটি’ মালাক্কা প্রণালি ও সিঙ্গাপুর হয়ে মালয়েশিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার পর হঠাৎ করেই এর ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS)’ বন্ধ করে দেয়।

স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করেই এটি পৌঁছায় মালয়েশিয়ার ‘ইস্টার্ন আউটার Пор্ট লিমিটস (EOPL)’ এলাকায়। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ১,২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই নোঙর অঞ্চলটি মালয়েশিয়া উপকূল থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের আন্তর্জাতিক উৎস গোপন করতে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে (Ship-to-Ship/STS) তেল খালাসের প্রস্তুতি নিতেই সংকেত বন্ধ করে জাহাজগুলো ‘ডার্ক’ বা দৃশ্যপটের বাইরে চলে যায়।

[ইরানের বন্দর] ➔ [মালাক্কা প্রণালি] ➔ [মালয়েশিয়ার EOPL (STS স্থানান্তরিত)] ➔ [চীন ('টিপট' শোধনাগার)]

মূল গন্তব্য চীন ও 'টিপট' শোধনাগার

ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সংগৃহীত এই অপরিশোধিত তেলের মূল গন্তব্য চীন। ঐতিহাসিকভাবে দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রয় করে থাকে।

  • ছায়াবহর (Ghost Fleet): স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ‘সিলাইট’ প্রজেক্টের পরিচালক রে পাওয়েলের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই ভুয়া ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অন্তত ৬২টি জাহাজ এই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

  • টিপট শোধনাগার: কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্স জানান, ইরানের তেল মূলত চীনের স্বাধীন এবং তুলনামূলক ছোট ‘টিপট’ (Teapot) শোধনাগারগুলোতে যায়।

  • মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে: রাষ্ট্রীয় বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মতো এই ছোট শোধনাগারগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত নয়। ফলে তারা তুলনামূলক কম দামে নিষিদ্ধ এই তেল কেনায় আগ্রহী থাকে।

আইনি ফাঁকফোকর ও ভৌগোলিক সুবিধা

হংকংয়ের সমতুল্য আয়তনের ইওপিএল (EOPL) অঞ্চলটি এর শান্ত জলসীমার জন্য জাহাজ চলাচলের উপযোগী হলেও সামুদ্রিক আইনে দীর্ঘকাল ধরেই একটি ধূসর বা অস্পষ্ট এলাকা হিসেবে বিবেচিত।

এটি মালয়েশিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)-এর মধ্যে পড়লেও আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করায় সরাসরি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে আইনি ও কারিগরি দিক থেকে বেশ জটিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো সাধারণ দিনে এই এলাকায় অন্তত ২০০টির মতো জাহাজ নোঙর করা থাকে, যার অর্ধেকেরও বেশি সরাসরি ইরানের তেল বাণিজ্যের সাথে যুক্ত।

লেনদেনের মাধ্যম: ডলারকে এড়িয়ে চীনা 'ইউয়ান'

আন্তর্জাতিক আর্থিক নজরদারি ব্যবস্থা ‘সুইফট’ (SWIFT)-কে বাইপাস করতে চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (CIPS)’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘রেনমিনবি’ বা ‘ইউয়ানে’ সহজেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের মূল্য পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে।

যদিও চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান থেকে তেল কেনার কথা অস্বীকার করে আসছে, তবে কাস্টমস বিশ্লেষণে দেখা যায়, চীনের কাস্টমস রিপোর্টে ইরানের তেলের উল্লেখ না থাকলেও মালয়েশিয়া থেকে চীনে তেল আমদানির পরিমাণ সেখানকার নিজস্ব তেল উৎপাদনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দেখানো হচ্ছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, ইওপিএল-এর মতো অনানুষ্ঠানিক রুটে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমেই এই সরবরাহ চেইন সচল রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency