ক্যান্টনমেন্ট থেকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হস্তক্ষেপ ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি মেনে নেবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ক্যান্টনমেন্ট বা সেনানিবাস থেকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হস্তক্ষেপ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেছেন, “যাদের কাজ সেনানিবাসে, তারা সেখানেই থাকুন।”
শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ জনগণও উপস্থিত ছিলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে নির্বাচনী পরিবেশ এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, "বিগত ১৬ বছরে এতগুলো ডামি নির্বাচন হয়েছে, আপনাদের ইনক্লুসিভিটি কোথায় ছিল?" তিনি এও বলেন, "এত বছর কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনাবাহিনীর কোনো জেনারেলকে পদত্যাগ করতে দেখিনি।" হাসনাতের মতে, দেশের জনগণের অধিকারকে সংকুচিত করে সরকার বারবার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অবৈধ ও অস্বচ্ছ করেছে, যার ফলে জনগণের আস্থা হারানো গেছে।
তিনি আরও বলেন, "এত গুম-খুন, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন চলেছে, আপনারা প্রতিবাদ করেননি। এখন আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় আছি।" হাসনাতের এই বক্তব্যটি সাধারণ জনগণের প্রতি সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানায়। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রাপ্য অধিকার পেতে পারে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমাদের অবস্থান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়।" তিনি বলেন, তাদের কোনো বিদ্বেষ বা বিরোধ নেই সেনাবাহিনীর সাথে, তবে যেসব মানুষ সেনাবাহিনীকে অপব্যবহার করতে চান, তাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। তিনি আরও বলেন, "যারা সেনাবাহিনীকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের আন্দোলন।" হাসনাতের মতে, সেনাবাহিনী একটি দেশ রক্ষাকারী শক্তি এবং জনগণের আস্থা রাখার প্রতিদান দেওয়ার অধিকারী।
তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সেনাবাহিনী আমাদের আস্থার প্রতিদান দেবে।" এছাড়া, তিনি বলেন, "আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে আওয়ামী লীগ আর কখনো পুনর্বাসিত হবে না।" এটি হাসনাতের একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল, যেখানে তিনি জনগণের ঐক্য ও আন্দোলনের শক্তির ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিনের সমাবেশে, হাসনাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নামে জবরদস্তি চালাচ্ছে, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করছে, আর আমাদের দাবি হলো এই দলটি নিষিদ্ধ করা হোক।" এই বক্তব্যটি তিনি সরকারের একনায়কত্ব এবং অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের প্রতি একটি কঠোর প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেন।
হাসনাত বলেন, "আপনারা এখনো দাবি করছেন যে, দেশে গণতন্ত্র রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তা কি গণতন্ত্রের স্বাক্ষর বহন করে?" তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার যদি এসব ভুল না সংশোধন করে, তবে দেশের ভবিষ্যত অন্ধকারে ডুববে।" তিনি জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হিসেবে তার দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের অধিকারের জন্য সোচ্চার হতে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে।
তার মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি জাতীয় আন্দোলন যা দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার প্রতি নিবেদিত। তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই একটি সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হতে, যেখানে জনগণের মতামত পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হবে।"
সমাবেশ শেষে, হাসনাত আবদুল্লাহ সকল নেতাকর্মীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চাই। আমাদের সংগ্রাম শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণের জন্য নয়, বরং জাতির প্রকৃত কল্যাণের জন্য।"
তিনি আরও বলেন, "জাতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আমরা কখনও ভুলবো না। এই সংগ্রাম শুধু আমাদের দেশের জনগণের জন্য, যারা বারবার তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।"
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |