ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, ১৭ দফা হামলায় নিহত ২, আহত ১০+
সানা, ২৫ মার্চ ২০২৫: ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের হুতিবিরোধী অভিযান চলাকালীন গত কয়েক ঘণ্টায় ১৭ দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত দু’জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী এ হামলার ব্যাপারে দায় স্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে, হামলায় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লক্ষ্যবস্তু ছিল।
হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং আশপাশের শহরগুলোতে বিমান হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা ছিল আল-সালেম, আল-সুফান, এবং সাহার অঞ্চলে। এসব অঞ্চলে বাড়িঘর, গাড়ি ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দু'জন বেসামরিক নাগরিক ছিল এবং আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই সাধারণ জনগণ। এসব হামলা গত কয়েক দিনের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
গত ১০ দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইয়েমেনে অর্ধশতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যা এই অঞ্চলে মানবিক সংকটকে আরও বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন যে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং যুদ্ধকালীন আইন লঙ্ঘন করছে, কারণ এসব হামলায় বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি ঘটছে।
হুতির প্রতিক্রিয়া
অপরদিকে, হুতি গোষ্ঠী মার্কিন হামলার পাল্টা হিসেবে নিজেদের হামলা চালানোর দাবি করেছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হুতির মুখপাত্র ইয়াহিয়ে সারে জানান, তাদের বাহিনী লোহিত সাগরে একটি মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, তাদের ড্রোন ইউনিট তেল আবিবের একটি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও এসব হামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় উদ্বেগ
ইয়েমেনে চলমান সামরিক অভিযানগুলোকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই হামলাগুলোকে হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি 'বেসামরিক নিরাপত্তা অভিযানে' হিসেবে বর্ণনা করছে, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে 'বেসামরিক জনগণের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ' হিসেবে দেখছে। ২০১৫ সাল থেকে চলমান এই যুদ্ধে ইয়েমেনের সাধারণ জনগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং এর ফলস্বরূপ দেশটির মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
শান্তির সম্ভাবনা
এ পরিস্থিতিতে, দেশটির শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা, এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি ইয়েমেনে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে, হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে যে শান্তি আলোচনা চলছে, তা প্রায় বিঘ্নিত হয়েছে এবং যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই নতুন বিমান হামলা এবং পাল্টা হামলা ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, এবং দেশটির ভবিষ্যৎ শান্তি অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের পরেও কি কোনো ধরণের শান্তিপূর্ণ সমাধান পাওয়া যাবে, নাকি এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |