মার্কিন পুঁজিবাজারে ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ ধস, ট্রাম্পের শুল্কারোপের প্রভাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে এক মারাত্মক ধস নেমেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত বুধবার (৩ এপ্রিল) ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণা আসার পর থেকেই মার্কিন শেয়ারবাজারে অস্থিরতা শুরু হয়, এবং বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) একদিনেই মার্কিন পুঁজিবাজারের সূচক এস অ্যান্ড পি ফাইভ হান্ড্রেড এবং নাসডাক চরম নিম্নে গিয়ে পৌঁছায়। এই ধসের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থার উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) একদিনে প্রায় দুই দশমিক চার ট্রিলিয়ন ডলারের শেয়ারমূল্য হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের সূচক এস অ্যান্ড পি ফাইভ হান্ড্রেড। এই পতনটি ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ধস হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। নাসডাক সূচকও একদিনেই ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমেছে, যা করোনা মহামারীর পর সর্বোচ্চ পতন। বাজারের এই পতন মূলত ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণার কারণে হয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন, ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের শুল্কারোপের পদক্ষেপ বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, এবং এর ফলে মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন আসতে পারে। বিশেষ করে, শেয়ারবাজারে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম এই ধসের ফলে ব্যাপকভাবে কমে যায়, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়।
মার্কিন শেয়ারবাজারে পতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর, বিশেষত অ্যাপল এবং অ্যামাজন। এই দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। অ্যাপল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের পতন বাজারে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করেছে। এসব কোম্পানির শেয়ার মূল্যের পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এগুলোর শেয়ার মার্কিন বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
এছাড়া, অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। যেসব বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদীভাবে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর ফলে মার্কিন পুঁজিবাজারে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা শেয়ার বাজারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন পুঁজিবাজারে ধসের পাশাপাশি, এশিয়ার শেয়ারবাজারও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাপানের নিক্কেই সূচক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গেছে, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। জাপানের শেয়ারবাজারে এই পতন মূলত মার্কিন শুল্কারোপের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর শেয়ারবাজারও পতন দেখিয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারেও তীব্র চাপ পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষত, ট্রাম্পের শুল্কারোপের কারণে বিশ্বজুড়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের প্রভাব বিশ্বের শেয়ারবাজার, ব্যবসা ও অর্থনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। বিশেষত, শুল্কারোপের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে, বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন, যা মার্কিন শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন ঘটিয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের শুল্কারোপ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। অন্যান্য দেশগুলোও একই ধরনের পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। পাশাপাশি, শুল্কারোপের ফলে দ্রব্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্য নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। বিশেষত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চীন এরই মধ্যে ট্রাম্পের শুল্কারোপের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, এবং তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |