| বঙ্গাব্দ

ফরহাদ মজহার: মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল ফ্যাসিস্টদের দেওয়া নাম, এখনই আসল মঙ্গল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-04-2025 ইং
  • 3774499 বার পঠিত
ফরহাদ মজহার: মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল ফ্যাসিস্টদের দেওয়া নাম, এখনই আসল মঙ্গল
ছবির ক্যাপশন: ফরহাদ মজহার: মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল ফ্যাসিস্টদের দেওয়া নাম, এখনই আসল মঙ্গল

ফরহাদ মজহার: মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল ফ্যাসিস্টদের দেয়া একটি নাম, এখন আসল মঙ্গল

কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল ফ্যাসিস্টদের দেয়া একটি নাম। তিনি বলেন, যেখানে দেশের আপামর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নেই, সেখানে কোনো মঙ্গল থাকতে পারে না। বরং এখন যা হচ্ছে, সেটিই আসল মঙ্গল, কারণ এখানে সবাই অন্তর্ভুক্ত এবং কেউ বাদ পড়ছে না। তিনি আরও বলেন, শোভাযাত্রা এতদিন রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ ছিল, যা এখন ভেঙে গেছে এবং এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

এই মন্তব্যগুলো তিনি সোমবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রকাশ করেন। বর্ষবরণের এই শোভাযাত্রায় তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে, তার চিন্তা ও মতামত শেয়ার করেন।

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ

ফরহাদ মজহার বলেন, "এটি একটি বিশেষ গোষ্ঠী এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের টিকিয়ে রেখেছিল।" তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের রাজনৈতিকভাবে যেমন পরাজিত করেছি, তেমনি সাংস্কৃতিকভাবেও তাদের বিতাড়িত করব।” তিনি অভিযোগ করেন যে, একসময় রাজনৈতিকভাবে শোভাযাত্রাটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং তাদের মতো করে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং শোভাযাত্রাটি আর সেই রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ নেই।

এটি এখন জনগণের উৎসব, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করছে, এবং এর মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে, যা একসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার মতে, বর্তমান শোভাযাত্রা প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং জনগণের অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ

ফরহাদ মজহার আরও বলেন, “আমাদের সংস্কৃতিতে ‘মঙ্গল’ বলতে কিছু নেই।” তার মতে, বাঙালি সংস্কৃতি চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ, বিজু, বিহু, বৈসাবি ইত্যাদি উৎসবের মাধ্যমে সমৃদ্ধ। এই সব উৎসবের মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্তর্ভুক্ত ছিল না, বরং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের একতাবদ্ধতা এবং সবার জন্য একটি সাধারণ উৎসবের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “এখন যেটা হচ্ছে, সেটিই ‘মঙ্গল’। বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলে এতদিন যাদের বিরুদ্ধে এই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল, আজ তারা হাজির।” এটি একটি শক্তিশালী বার্তা, যেখানে বাংলাদেশের সব জনগণ, তাদের ধর্ম, জাত, ভাষা বা সংস্কৃতি নির্বিশেষে, একত্রিত হয়ে জাতির প্রতি নিজেদের দৃষ্টি এবং ঐক্য প্রকাশ করছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা

ফরহাদ মজহার পহেলা বৈশাখ এবং চৈত্র সংক্রান্তি একসাথে উদযাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ এই দুটি একইসাথে উদযাপনের উপলক্ষ এনে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এটি রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।” এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, যেখানে তারা তাদের জাতীয় ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি প্রদর্শন করছে।

তিনি আরও বলেন, “ভূ-রাজনৈতিকভাবে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে এটি বাংলাদেশের জনগণের স্পষ্ট বার্তা। বহির্বিশ্বকে বুঝিয়ে দেয়া, বাংলাদেশ আসলে কী।” এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের সংস্কৃতির ওপর বিশ্বাস রেখে, তারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এক হয়ে, ভবিষ্যতে দুনিয়া জয় করবে।

শোভাযাত্রার রাজনৈতিক প্রসঙ্গ

ফরহাদ মজহার বলেন, “পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা এতদিন রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে ছিল, ফ্যাসিবাদীরা এটি নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছে।” তার মতে, এর আগে শোভাযাত্রাটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক শো ছিল, যা মানুষের অন্তর্ভুক্তির বদলে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এখন এটি জনগণের উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে নিজ নিজ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য উদযাপন করছেন।

ফরহাদ মজহার আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের উৎসবগুলো ভবিষ্যতে আরও বেশি জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা নিজেদের সংস্কৃতি এবং জাতিগত পরিচয়কে উদযাপন করতে পারবে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency