ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের হুতি নিয়ন্ত্রিত রাস ইসা জ্বালানি বন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ভোররাতে ইয়েমেনের হোদেইদাহ প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই বন্দরে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দরটিতে কয়েক দফা হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও আশপাশের স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক ক্ষমতা ও আঞ্চলিক হুমকি কমানোর লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
হামলায় নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বন্দর এলাকায় কাজ করা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা। গুরুতর আহত অনেককে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে অনেকেই সঠিক সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলা শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনায় নয়, বরং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
রাস ইসা বন্দরটি ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি কেন্দ্র। এটি দিয়ে দেশের একটি বড় অংশে জ্বালানি সরবরাহ করা হয় এবং রপ্তানির মাধ্যমেও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। হামলার কারণে এই অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। হামলার পর চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের অনেক জায়গায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
আন্তর্জাতিক মহল এ হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা ইয়েমেনের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |