| বঙ্গাব্দ

ইরানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে, দাবি সেনা কর্মকর্তার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-05-2025 ইং
  • 8961840 বার পঠিত
ইরানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে, দাবি সেনা কর্মকর্তার
ছবির ক্যাপশন: ইরানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে, দাবি সেনা কর্মকর্তার

ইরানে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণে ইসরায়েলের জড়িত থাকার ইঙ্গিত

ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের শহীদ রাজাই বন্দরে শনিবার (২৬ এপ্রিল) ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৭০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ইরান কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলেও, দেশটির সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবার এই বিস্ফোরণের পেছনে ইসরায়েলের হাত থাকার সম্ভাবনা উত্থাপন করেছেন।

ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আভিভি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, “ব্যালেস্টিক মিসাইলের জ্বালানি ধ্বংস হয়েছে। কাজেই এই বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হুতিবিরোধী অভিযানের পর ইরানেও বড় ধরনের হামলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।”

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আভিভি বলেন, “এই ধরনের বিস্ফোরণ সাধারণত দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ইচ্ছাকৃত আক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে যখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অঞ্চলে ঘটে।” তিনি আরও বলেন, “যেহেতু এটি একটি রাসায়নিক বিস্ফোরণ, এর ফলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, এবং এটি যথেষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে করা হয়েছে।”

শহীদ রাজাই বন্দরের বিস্ফোরণটি ঘটেছিল মিসাইল ফুয়েলের একটি বড় স্টোরেজে, যেখানে প্রচুর পরিমাণে মিসাইল এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আশপাশের বেশ কিছু ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝে বহু মানুষ চাপা পড়ে।

ইরান কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এই বিস্ফোরণকে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করলেও, তাদের তদন্ত এখনো চলমান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে এবং জীবিতদের উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা চলছে।

তবে, ইরানি সরকারের বক্তব্যের বিপরীতে, ইসরায়েলের জড়িত থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কিত আলোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক এবং এ ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের পরিকল্পনা থাকতে পারে।

এদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের হামলার উদ্দেশ্য কেবল ইরানকে সরাসরি আঘাত করা নয়, বরং দেশের সামরিক সক্ষমতাকেও বিপদগ্রস্ত করা। একদিকে, ইরান নিজেকে হুমকির মধ্যে দেখছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই বিস্ফোরণের পর ইরানে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ঘটনার উপর নজর রেখেছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো, যাদের মধ্যে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে।

তবে, ইরান এখনও দাবি করছে যে, বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এবং তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ইসরায়েল এই বিস্ফোরণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ ঘটনা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency