রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে ধরা পড়েছে বিরল আকৃতির দুটি কাতলা মাছ, যা ইতোমধ্যেই স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শনিবার (৩ মে) ভোরে পদ্মা নদীর মোহনায় এই বিশালাকার মাছ দুটি ধরা পড়ে জামাল প্রামাণিক ও টক্কু হলদার নামের দুই অভিজ্ঞ জেলের জালে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে জানা যায়, মাছ দুটি যখন ধরা পড়ে, তখন জেলেরা বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ কোনো মাছ নয়। বিশাল আকৃতির ও শক্তিশালী মাছ দুটি টানতে জেলেদের বেশ বেগ পেতে হয়। পরে অনেক কষ্টে নৌকায় তোলা হয় মাছ দুটি।
মাছ দুটি নিয়ে আসা হয় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার স্থানীয় মৎস্য আড়তে। সেখানে প্রচুর মানুষ ভিড় করে বিরল আকৃতির এই মাছ দুটি এক নজর দেখার জন্য। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররাও মাছ দুটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে মাছ দুটি কিনে নেন গোয়ালন্দের পরিচিত মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা।
প্রথম কাতলা মাছটির ওজন ছিল ২৮ কেজি। এটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে মোট ৫০ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। অপর মাছটির ওজন ছিল ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম (সাড়ে ১৯ কেজি), যার মূল্য নির্ধারিত হয় প্রতি কেজি ১ হাজার ৬৫০ টাকা হারে। ফলে মাছটির মোট বিক্রি মূল্য দাঁড়ায় ৩২ হাজার ১০০ টাকা। দুটি মাছই কিনে নেন চান্দু মোল্লা নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি মোট ৮২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করেন মাছ দুটি কেনার পেছনে।
চান্দু মোল্লা বলেন, “এ ধরনের বড় কাতলা মাছ পদ্মা নদীতে মাঝে মাঝে ধরা পড়লেও একসঙ্গে দুইটি বিরল দেখা যায়। আমি মাছ দুটি কিনেছি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির জন্য। ইতোমধ্যে মোবাইলে বিভিন্ন জেলার বড় ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পদ্মার মোহনায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বড় মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বছরের অন্য সময়ে এমন বড় মাছ ধরা পড়া অনেকটাই ব্যতিক্রম।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, “পদ্মা নদীতে বড় আকৃতির কাতলা, বোয়াল, পাঙ্গাশ ইত্যাদি মাছ মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে। এটি নদীর জীববৈচিত্র্য এবং মৎস্য সম্পদের বৈচিত্র্য বোঝাতে সহায়ক। এই ধরনের ঘটনা জেলেদের উৎসাহিত করে এবং বাজারেও প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।”
মাছ দুটি দেখতে দৌলতদিয়ার আড়তে সকাল থেকেই উৎসুক জনতা ভিড় করেন। অনেকে ছবি তোলেন, কেউ কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। অনেকেরই মত, মাছ দুটি আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারত, কারণ এ ধরনের বিশাল কাতলা সাধারণত বড় হোটেল বা রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো, পদ্মা নদী এখনও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ভাণ্ডার। সরকারি সহায়তা ও সচেতনতা বাড়ালে এই নদী থেকে জেলেরা আরও বেশি উপকৃত হতে পারবেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |