নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১১ মে ২০২৫
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে—এই প্রশ্ন তুলে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১১ মে) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “বিশ্ব আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিলাপ করবে, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এটি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কেও সরাসরি বক্তব্য।
শফিকুল আলম তার পোস্টে দাবি করেন, “জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধে যুক্ত ছিল, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি উদাহরণ দেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের, যেখানে জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং বেলজিয়ামে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল তাদের অবসানমূলক, সহিংস ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে।
প্রেস সচিব দাবি করেন, “গণতান্ত্রিক বিশ্বে কেউই এমন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত, অর্থপাচারকারী ও গণতন্ত্রবিরোধী দলের পক্ষ নেবে না।” তার ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না।
এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন দেশে গণআন্দোলনের সূত্র ধরে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং দুর্নীতির নানা তথ্য সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি বড় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতার ভবিষ্যৎ এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিচয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রেস সচিব যে উদাহরণ দিয়েছেন, যেমন নাৎসি বা ফ্যাসিস্ট দলের নিষিদ্ধকরণ, সেগুলো এককভাবে ইতিহাসের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য ছিল। তবে বর্তমানে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার নীতির আলোকে প্রতিক্রিয়া জানানো অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সাধারণত রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধকরণে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে, যদি না তা সরাসরি সশস্ত্র সহিংসতা বা সন্ত্রাসের প্রমাণসহ হয়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |