বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক:
সোমবার, ১৬ জুন—আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি বহুল আলোচিত ও সংবেদনশীল শুনানি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে সকাল ১১টা থেকে এই শুনানি শুরু হয়।
এর আগে ১ জুন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার অভিযোগ গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আনা হয়।
প্রসিকিউশন বলছে—
“এই সময়কালে পুলিশের গুলিতে এবং সংঘর্ষে ১৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। এর পেছনে ছিল শেখ হাসিনার নির্দেশনা, উসকানি ও প্ররোচনা।”
অভিযোগ আরও বলছে,
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মিলে এই হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে আন্দোলন দমন করতে মরনঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার প্রমাণ রয়েছে।”
১. শেখ হাসিনা:
সরাসরি আদেশ ও নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নিতে বলা।
উসকানি ও মদদ দিয়ে গণহত্যা সংঘটনে ভূমিকা।
আসাদুজ্জামান খান কামাল (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী):
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও রাজনৈতিক নির্দেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতা।
হত্যাকাণ্ডের সময় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন (সাবেক আইজিপি):
মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে নির্বিচার গুলি বর্ষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা।
এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকগণ মামলার বিষয়বস্তু ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই বলছেন, এই মামলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
বিএনপি ও সমমনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক জোটগুলো এই মামলাকে ‘জনগণের বিচারপ্রক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়,
“আন্দোলনকালে যারা শহীদ হয়েছেন, এই বিচার তাঁদের প্রতি ন্যায়ের পথ খুলে দিতে পারে।”
সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক মহল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।
🔴 বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সর্বশেষ আপডেট জানতে ভিজিট করুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |