জেরুজালেম, ১৯ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের তীব্র আকার নিচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের একটি প্রধান হাসপাতালে আঘাত হানার ঘটনার পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আর বেঁচে থাকতে দেয়া যায় না”।
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওই হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি সোরোকা মেডিকেল সেন্টারের পার্কিং লটে আঘাত হানে। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কমপক্ষে ৪৭ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসক, রোগী ও হাসপাতালের কর্মীরা রয়েছেন।
হামলার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার পাশাপাশি আশপাশের রোগীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন,
“আয়াতুল্লাহ খামেনি সরাসরি ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ব্যক্তির আর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল টিকে থাকতে হলে তাকে থামাতেই হবে।”
তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা “টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন বা নির্দেশিত হত্যার স্পষ্ট ইঙ্গিত” হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোরোকা হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
“এই হামলা ছিল যুদ্ধাপরাধ। অসুস্থ ও আহত মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ইরান তার প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে। তেহরানকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ইসরায়েল এখন “সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক নয়, আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ” নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে তেহরানভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা IRNA জানায়, “ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ” নেওয়া হয়েছে।
ইরান দাবি করছে, ইসরায়েল সম্প্রতি সিরিয়ার আল-বুকামাল এলাকায় ইরানি সেনা পরামর্শদাতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যার জবাবেই এই পাল্টা প্রতিক্রিয়া।
এই হুমকির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস দুই দেশের প্রতি “সর্বোচ্চ সংযম” দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়াও পরিস্থিতি অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দুই পক্ষকেই বেসামরিক স্থাপনায় হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আরিয়া লেভি বলেন,
“ইসরায়েলের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি অন্য দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে ‘বেঁচে থাকতে দেওয়া যাবে না’ বললে তা শুধু রাগ নয়, বরং যুদ্ধ প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান এবং ইসরায়েল উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ছায়াযুদ্ধ চলছিল। কিন্তু এখন সেটা স্পষ্ট রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার পথে।”
উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও সিরিয়ায় ইরানি ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তীব্র আকার ধারণ করে। তবে সরাসরি ইসরায়েলের ভেতরে বেসামরিক স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনা এই প্রথম।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা এবং ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া দুই দেশকেই একটি “সীমান্ত পার হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি”-তে নিয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |