বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাইলে ইসলামী হুকুমতের বিকল্প নেই।”
তিনি ২১ জুন ২০২৫, শনিবার মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দলটি আবারও তাদের আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করল—বাংলাদেশে একটি পূর্ণ ইসলামী শাসনব্যবস্থার লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দিল।
স্থান: মেহেরপুর জেলা কমিউনিটি সেন্টার
আয়োজক: মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী
অতিথি ও বক্তারা:
প্রধান অতিথি: মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান
সভাপতি: মাওলানা তাজউদ্দীন খান (জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, মেহেরপুর-১)
পরিচালক: জেলা তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম
বক্তব্যে মূল পয়েন্টগুলো:
ইসলামী চিন্তাধারাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে
জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হতে হবে
ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে ইসলামী নীতিমালাই একমাত্র পথ
প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য:
১৯৪১ সালে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদীর নেতৃত্বে জামায়াত প্রতিষ্ঠিত হয়
দলটির মূল লক্ষ্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করা, যেখানে শারঈ আইনই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হবে
বাংলাদেশে কার্যক্রম:
স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটি নির্বাচন ও সাংগঠনিক কাজ শুরু করে
১৯৮০–২০০৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময় সংসদে প্রতিনিধিত্ব ও মন্ত্রিত্ব লাভ করে
২০০৯ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নিষিদ্ধের মুখে দলটি চাপে পড়ে
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে "দাওয়াতি কার্যক্রম ও সাংগঠনিক শক্তির পুনর্গঠন" দিয়ে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ইসলামি হুকুমতের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচারকে সামনে আনা হয়েছে
বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে ‘অবিচার ও বৈষম্য’ চলছে বলে জামায়াতের অভিযোগ—সেটির বিকল্প হিসেবেই ইসলামী শাসনের প্রস্তাবনা
দলের সকল কর্মীদের প্রতি ‘এক্টিভিজম’-এর নির্দেশনা
২০২৬ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত স্থানীয় পর্যায়ে সমর্থন বাড়াতে চায়
ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও সামাজিক ইনসাফের বার্তাকে কেন্দ্র করে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রচার চালানো হবে
ইসলামপন্থী ভোটারদের মধ্যে পুনরুজ্জীবন
তরুণ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর মাঝে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো
স্থানীয় পর্যায়ে পুনর্গঠনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা অর্জনের চেষ্টা
আইনি বাধা: জামায়াতের নিবন্ধন স্থগিত ও দলীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আপত্তি ও বাধা
সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা দ্বিধা, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মাঝে
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্য শুধুই আদর্শিক বিবৃতি নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি বিকল্প মডেলের প্রস্তাবনা।
জামায়াত এখন স্পষ্টভাবে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইনসাফ, স্থিতিশীলতা ও নৈতিক শাসনের উপায় হিসেবে উপস্থাপন করছে।
তবে এই চিন্তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে তা নির্ভর করছে দেশের আইনি কাঠামো, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনসমর্থনের ওপর।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
Q1: মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্যের মূল বার্তা কী?
A: ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ইসলামী হুকুমতের প্রয়োজনীয়তা।
Q2: জামায়াত কীভাবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চায়?
A: স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং জনগণের মাঝে ইসলামি চিন্তাধারা প্রচারের মাধ্যমে।
Q3: বর্তমান আইনি পরিস্থিতিতে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি?
A: দলটির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে, তবে আদর্শিকভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
Q4: জামায়াতের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা রয়েছে?
A: ইসলামী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রভাব রয়েছে, তবে জাতীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
Q5: ইসলামী হুকুমত বলতে তারা কী বোঝায়?
A: কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে শারঈ আইন, ইনসাফ ও নৈতিকতা হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |