| বঙ্গাব্দ

৬২ ঘণ্টা পর ইরানে ইন্টারনেট চালু: সংঘাতকালীন নিরাপত্তা, দুর্ভোগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-06-2025 ইং
  • 6085523 বার পঠিত
৬২ ঘণ্টা পর ইরানে ইন্টারনেট চালু: সংঘাতকালীন নিরাপত্তা, দুর্ভোগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ছবির ক্যাপশন: ৬২ ঘণ্টা পর ইরানে ইন্টারনেট চালু

৬২ ঘণ্টা পর ইরানে আংশিকভাবে চালু হলো ইন্টারনেট: সংঘাত-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও নাগরিক দুর্ভোগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ৬২ ঘণ্টা ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার পর ইরান সরকার শনিবার (২১ জুন) রাতে দেশটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংযোগ আংশিকভাবে চালু করেছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস (NetBlocks) জানিয়েছে, দেশটির কিছু অঞ্চলে এখনও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত, এবং পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়।

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা: কীভাবে শুরু হলো?

শুরুর তারিখ: বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
প্রেক্ষাপট:

  • ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও সাইবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর

  • সরকার “সাইবার নিরাপত্তার স্বার্থে” ইন্টারনেট সেবা ধীর করে দেয়

  • পরে সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়

এই পদক্ষেপকে “সুরক্ষা কৌশল” হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি নাগরিকদের তথ্যপ্রবাহ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।

নাগরিকদের দুর্ভোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও মানবিক সংকট

সংঘাতকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকা মানে ছিল—

  • বিদেশে থাকা প্রবাসী ইরানিদের সঙ্গে দেশবাসীর যোগাযোগ বন্ধ

  • সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া নিষ্ক্রিয়

  • স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি যোগাযোগ, ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়

  • নাগরিক অধিকার চর্চায় বড় বাঁধা সৃষ্টি

একাধিক ইরানি নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন (VPN এর মাধ্যমে):

“আমাদের মনে হয়েছে, শুধু যুদ্ধ না—আমরা পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি।”

ইন্টারনেট চালু: কী বলছে সরকার ও পর্যবেক্ষকরা?

ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়:

“পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসায় ধীরে ধীরে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করা হচ্ছে।”

NetBlocks:

“বিভিন্ন প্রদেশে এখনও সংকেত দুর্বল, গতি কম, এবং কিছু জায়গায় কোনো সংযোগই নেই।”
“এই পরিস্থিতিকে এখনো আংশিক পুনরুদ্ধার হিসেবেই দেখা উচিত, স্বাভাবিকতা নয়।”

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা: বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও তথ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংঘাতে “সাইবার যুদ্ধ” একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আশঙ্কা:

  • ইসরায়েল সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে তাদের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হ্যাকিং করতে পারে

  • আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে “মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ” চালানো হচ্ছে

বিশ্বের উদাহরণ:

  • ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়া সময়ভেদে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করেছিল

  • চীনেও সংঘর্ষময় অঞ্চলে অনুরূপ কৌশল গ্রহণ করা হয়

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার প্রশ্ন

Human Rights Watch ও Amnesty International এর মতে—
“বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি জনগণের তথ্যের অধিকার, মতপ্রকাশ ও জরুরি সেবার ওপর আঘাত।”

 জাতিসংঘের ডিজিটাল অধিকার সংক্রান্ত নীতিমালাও বলছে,

“ইন্টারনেট সংযোগ আজকের দিনে মৌলিক মানবিক অধিকার কার্যকর করার একটি অপরিহার্য মাধ্যম।”

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

Q1: ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ কেন করা হয়েছিল?
A: ইসরায়েলের সাইবার হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা কৌশল হিসেবে।

Q2: কতক্ষণ ইন্টারনেট বন্ধ ছিল?
A: প্রায় ৬২ ঘণ্টা ধরে দেশটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।

Q3: এখন কি ইন্টারনেট পুরোপুরি ফিরে এসেছে?
A: না, নেটব্লকস জানিয়েছে—এখনো অনেক জায়গায় গতি কম এবং সংযোগ ব্যাহত।

Q4: নাগরিকদের ওপর কী প্রভাব পড়েছে?
A: যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, ডিজিটাল সেবা বন্ধ, তথ্যপ্রবাহের সংকট এবং প্রবাসী আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা।

Q5: ইন্টারনেট বন্ধ করা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন?
A: হ্যাঁ, অনেক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা একে স্বাধীন মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency